জিলহজ গ্রুপ বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান কারী হজ ও উমরাহ প্রতিষ্ঠান

Zilhajj Group

But as for one whose scales are light,
Al-Qari’ah (the Striking Hour): 8

Home

এক নজরে হজ্জ

বিভাগসমূহ

Our Package

এক নজরে হজ্জ

হজ / হজ্জ / হজ্ব (আরবি: حج হ্বাজ্জ্‌) ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা। এটি ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ্ব সম্পাদন করা ফরয‌ বা আবশ্যিক।[১] আরবি জ্বিলহজ্জ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ্বের জন্য নির্ধরিত সময়। হজ্জ পালনের জন্য বর্তমান সৌদী আরবের মক্কা নগরী এবং সন্নিহিত মিনা, আরাফাত, মুযদালফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাৎসরিক তীর্থযাত্রা।[২] যিনি হজ্জ সম্পাদনের জন্য গমন করেন তাঁকে বলা হয় হাজী।
পরিচ্ছেদসমূহ

১ হজ্ব কী
১.১ ফযিলত
২ হজ্বের ঐতিহাসিক পটভূমি
২.১ বিদায় হজ্ব
৩ হজ্বের শর্তাদি
৩.১ নারীদের জন্য মাহরাম
৪ হজ্বের রীতি-নীতি
৪.১ ইহরাম
৪.২ তাওয়াফ ও সাঈ করার সময় বিশেষভাবে লক্ষণীয়
৪.৩ অকুফ
৪.৪ কংকর নিক্ষেপ
৪.৫ তাওয়াফ
৪.৬ সাফা-মারওয়া
৪.৭ পশু কোরবানী
৪.৮ কেশ মুণ্ডন
৫ উমরাহ
৬ বিভিন্ন প্রকার হজ্ব
৭ ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ
৮ হজ্বের আবশ্যকীয় আচারসমূহ
৯ হজ্বের প্রস্তুতি
১০ মসজিদে নববী জিয়ারত
১১ মদিনার প্রাণকেন্দ্র মসজিদে নববী
১২ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক
১৩ গ্রন্থ সূত্র
১৪ তথ্যসূত্র
১৫ বহিঃসংযোগ

হজ্ব কী

হজ্জ একটি আবশ্যকীয় বা ফরয ইবাদত। এটি ইসলামের ৫ম স্তম্ভ। হজ্জ শব্দের আভিধানিক অর্থ “ইচ্ছা” বা “সঙ্কল্প” করা। আচার ও আদব-কায়দার বিবেচনায় হজ্জ হলো বৎসরের নির্দ্দিষ্ট দিনে নির্দ্দিষ্ট পোশাকে কয়েকটি স্থানে অবস্থান বা ওকুফ, ক্বাবা শরীফের তাওয়াফ, পশু কোরবানী, নির্দ্দিষ্ট স্থানে পরপর ৩দিন কংকর নিক্ষেপ এবং সাফা-মারওয়া টিলাদ্বয়ের মধ্যে হাঁটা। কাবাঘরে হজ্জ আদায় করেন সর্বপ্রথম হজরত আদম (আ:) ; তারপর নূহ (আ:) সহ অন্য সব নবী-রাসূল কাবাঘর জিয়ারত ও তাওয়াফ ক‌রে এ ধারা অব্যাহত রাখেন। নবী ইব্রহিম (আঃ) এর সময় থেকে হজ্জ ফরয বা আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত করা হয়।

ফযিলত

আবু হোরায়রা (রা:} বর্ণিত এক হাদিসে মুহাম্মদ (সা:) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ্জ করে এবং অশ্লীল ও গোনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে হজ্জ থেকে এমতাবস্খায় ফিরে আসে যেন আজই মায়ের গর্ভ থেকে বের হয়েছে। অর্থাৎ জন্মের পর শিশু যেমন নিষ্পাপ থাকে, সেও তদ্রূপই হয়ে যায়।” [৩] আরেকটি হাদিসে তিনি বলেছেনঃ “শয়তান আরাফার দিন হতে অধিক লজ্জিত ও অপদস্থ আর কোনো দিন হয় না, কেননা ওই দিন আল্লাহতায়ালা স্বীয় বান্দার প্রতি অগণিত রহমত বর্ষণ করেন ও অসংখ্য কবিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।” তিনি আরো বলেছেনঃ “একটি বিশুদ্ধ ও মকবুল হজ্জ সমগ্র পৃথিবী ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুর চেয়ে উত্তম। বেহেস্ত ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু তার প্রতিদান হতে পারে না।” হজরত আয়েশা রা: বর্ণনা করেছেনঃ মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, “আল্লাহতায়ালা আরাফার দিনে এত বেশিসংখ্যক লোককে দোজখ হতে নাজাত দেন, যা অন্য কোনো দিনে দেন না”।[৪]

হজ্বের ঐতিহাসিক পটভূমি

হিজরি সনের ১২তম মাস হলো জিলহজ্জ মাস। এই মাস হজরত ইব্রাহিম আ:-এর স্মৃতিবিজরিত এক অনন্য মাস। যখন হজরত ইব্রাহিম (আ:) কে হজ্জ ফরজ হওয়ার কথা ঘোষণ করার আদেশ দেয়া হয়, তখন তিনি আল্লাহর কাছে আরজ করলেনঃ এখানে তো জনমানবহীন বন্য প্রান্তর ; ঘোষণা শোনার মতো কেউ নেই। যেখানে জনবসতি আছে সেখানে আমার আওয়াজ কীভাবে পৌঁছবে? আল্লাহতায়ালা বললেন, তোমার দায়িত্ব শুধু ঘোষণা করা। বিশ্বের কাছে তা পৌঁছানোর দায়িত্ব আমার।

অত:পর হজরত ইব্রাহিম (আ:) মাকামে ইব্রাহিমে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলে আল্লাহতায়ালা তা উচ্চ করে দেন। কোনো কোনো বর্ণনায় আছেঃ তিনি আবু কোবাইস পাহাড়ে আরোহণ করতঃ দুই কানে অঙ্গুলি রেখে ডানে-বামে এবং পূর্ব-পশ্চিমে মুখ ফিরিয়ে ঘোষণা করেছিলেনঃ “লোক সব, তোমাদের পালনকর্তা নিজের গৃহ নির্মাণ করেছেন এবং তোমাদের ওপর এই গৃহের হজ্জ ফরজ করেছেন। তোমরা সবাই পালনকর্তার আদেশ পালন করো”। এই বর্ণনায় আরো বলা হয়েছেঃ ইব্রাহিম আ:-এর এই আওয়াজ আল্লাহতায়ালা বিশ্বের সবখানে পৌঁছে দেন এবং শুধু তখনকার জীবিত মানুষ পর্যন্তই নয়, বরং ভবিষ্যতে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আগমনকারী ছিল তাদের সবার কান পর্যন্ত এই আওয়াজ পৌঁছে দেয়া হয়। যার যার ভাগ্যে আল্লাহতায়ালা হজ্জ লিখে দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই এই আওয়াজের জবাবে “লাব্বায়িকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক” বলেছে অর্থাৎ হাজির হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। হজরত ইবনে আব্বাস বলেন, ইব্রাহিমের (আ:) আওয়াজের জবাবই হচ্ছে ‘লাব্বায়িকা’ বলার আসল ভিত্তি। [৫]

হজ্জ-এর বিভিন্ন আচার-কায়দা আদি পয়গম্বর ইব্রাহিম (আঃ)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। হজ্জের সাথে জড়িত রয়েছে আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর আত্মসমর্পণ, জিহাদ জয়ের ইতিহাস। ইব্রাহিম (আ:) আল্লাহর নির্দেশে তাঁর বিবি হাজেরাকে নির্জন মরুভূমিতে রেখে এসেছিলেন। সেখানে, ক্বাবা শরীফের অদূরে, বিবি হাজেরা নবজাত শিশু ইসমাইলকে (আ:) নিয়ে মহাবিপদে পড়েছিলেন। সাহায্যের জন্য কাকেও না পেয়ে তিনি পানির তালাশে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। কিন্তু কোথাও পানি না পেয়ে সন্তানের কাছে ফিরে এসে দেখলেন, সেখানে নবজাত শিশুর পদাঘাতে এক পানির উৎসের সৃষ্টি হয়েছে­। এটিই জমজম কূপ।

আরাফাতের ময়দানে উপস্খিতি হজরত আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:)-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বেহেশত থেকে আদম (আ:) ও হাওয়া (আ:) কে যখন দুনিয়াতে পাঠিয়ে দেয়া হয়, তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অত:পর উভয়ে আরাফাত ময়দানে এসে মিলিত হন। তাঁদের দোয়া আল্লাহতায়ালা এখানে কবুল করেন। এ জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হজরত আদম (আ:)-এর বংশধর দুনিয়ার সব মুসলিম আরাফাতের ময়দানে এসে উপস্খিত হয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ইবাদতে মগ্ন হন।

বিদায় হজ্ব

মক্কা বিজয়-এর দ্বিতীয় বৎসরে মুহম্মদ (সাঃ) তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ্জ পালন করেন। এটি বিদায় হজ্জ নামে অভিহিত। এর পূর্ববর্তী বৎসরে তিনি হজ্জ করেন নি। মক্কা বিজয়ের পরবর্তী বৎসরে ইসলামের প্রথম খলীফা আবুবকর (রাঃ) এর নেতৃত্বে হজ্জ সম্পাদিত হয়। পরবর্তী বৎসরে হযরত মুহম্মদ (সাঃ) হজ্জের নেতৃত্ব দান করেন। বিদায় হজ্জ-এর মাধ্যমে তিনি আদর্শরূপে হজ্জ পালনের নিয়মাবলী উল্লেখ এবং প্রদর্শন করেন। এই হজের সময় তিনি আরাফাতের ময়দান-এ যে ভাষণ বা খুৎবা প্রদান করেন তা বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

হজ্বের শর্তাদি

হজ্জে গমনের জন্য কতিপয় শর্ত পূরণ হওয়া জরুরী।
নারীদের জন্য মাহরাম

আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য ছাড়াও নারীদের জন্য তৃতীয় একটি শর্ত রয়েছে আর সেটি হলো হজ্জে যাওয়ার জন্য নারীকে একজন মাহরাম নিতে হবে। মাহরাম হতে পারেন স্বীয় স্বামী এবং যার সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ের অনুমতি নেই, অর্থাৎ কখনো ওই ব্যক্তির সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে বৈধ হবে না, যেমন পিতা, ভ্রাতা, পুত্র প্রমুখ কয়েকজন নির্দিষ্ট আত্মীয় পুরুষ। যাদের মাহরামনেই তাদের হজ্জে যাওয়ার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। মাহরেম ব্যতীত হজের জন্য নারীদের সৌদী আরবের ভিসা প্রদান করা হয় না। মাহরাম ব্যতীত হজ্জ করা হলে বা মাহরামওয়ালী মহিলার সঙ্গে হজ্বের সফর জায়েজ হবে না। যদি মাহরাম ব্যতীত হজ্ব করতে যায় তাহলে হজ্ব তো আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু মাহরাম ব্যতীত সফরের গোনাহগার হতে হবে।[৬]

হজ্বের রীতি-নীতি
ইহরাম

হজ্জকালীন সার্বিক অবস্থাকে বলা হয় ইহরাম যার প্রধান চিহ্ন হলো দুই খণ্ড সিলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান। ইহরাম-এর নির্দ্দিষ্ট স্থানকে বলা হয় মীক্বাত। প্রয়োজন মোতাবেক অযু বা গোছল শেষে, ইহরামের কাপড় পরে নিয়ে, দুই রাকাত নফল নামায পড়ে, মাটিতে বসে, ইহরামের নিয়ত করতে হয়। হাজী সাহেব ব্যক্তি প্রথমে নখ, গোঁফ ইত্যাদি কেটে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করবেন। এরপর গোসল অথবা ওজু করবে। গোসল করাই অধিক শ্রেয়। হায়েজ-নেফাসগ্রস্ত নারীর ক্ষেত্রেও গোসল উত্তম- যদি গোসল তার জন্য ক্ষতিকর না হয়। পুরুষ নতুন একটি ইযার ও একটি চাদর পরিধান করবে। ইহরামের এ কাপড় দুটি সাদা ও নতুন হওয়াই বাঞ্ছনীয়। চাদরে বোতাম লাগানো যাবে না। এছাড়া গিঁটওদেঁয়া চলবে না। টুপি পরা যাবে না, মাথা খোলা থাকবে। মহিলারা পর্দা রক্ষা হয় সেলাইযুক্ত এমন যে কোন কাপড় পরিধান করতে পারবে। এবং তারা মাথা ঢেকে রাখবেন। তারা মুখমণ্ডলের ওপর এমনভাবে কাপড় ঝুলিয়ে দেবেন যেন কাপড়টি চেহারা স্পর্শ না করে। গোসলের পর দুই রাকাআত নফল নামায আদায় করে বসা অবস্থায় নিয়তের জন্য সুখে উচ্চারণ করবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফায়াসসিরহুলি ওয়াতাকাব্বালহু মিন্নি’ যার অর্থ হলো ‘হে আল্লহ। আমি হজ্ব পালনের ইচ্ছা করেছি। এ কাজটি আপনি আমার জন্য সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন। এটিই হজ্জের নিয়ত। এরপর তালবিয়াহ পাঠ করতে হবে। তালবিয়াহ হলো-‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইকা। ইন্নাল হামদা ওয়ান নেয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা-শারীকা লাকা’। এর অর্থ হলো, ‘হে আল্লাহ, আমি হাজির আছি, আমি হাজির আছি। আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির আছি। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সমগ্র বিশ্বজাহান আপনার। আপনার কোনো শরীক নেই।’ এভাবে উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করতে হবে।

তাওয়াফ ও সাঈ করার সময় বিশেষভাবে লক্ষণীয়

তাওয়াফের সময় অজু থাকা জরুরি। তবে সাঈ (সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাতবার যাওয়া আসা করা) করার সময় অজু না থাকলেও সাঈ সম্পন্ন হয়ে যাবে। হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া একটি সুন্নত। তা আদায় করতে গিয়ে লোকজনকে ধাক্কাধাক্কির মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া বড় গুনাহ। তাই তাওয়াফকালে বেশি ভিড় দেখলে ইশারায় চুমু দেবেন। সাঈ করার সময় সাফা থেকে মারওয়া কিংবা মারওয়া থেকে সাফা প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন চক্কর। এভাবে সাতটি চক্কর সম্পূর্ণ হলে একটি সাঈ পূর্ণ হবে।

অকুফ

হজ্জ সম্পাদনক্রমে মক্কার অদূরবর্তী বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকে বলা হয় অকুফ। যে ৩টি স্থানে অকুফ করতে হয় সেগুলো হলো মিনা, আরাফাত এবং মুযদালফা। ৮ই জিলহজ্জ ক্বাবা শরীফে ফযর নামায আদায় করে মক্কার ৩/৪ কিলোমিটার দূরে মিনায় চলে যেতে হয়। হাজীরা জোহরের ওয়াক্তের আগে মিনায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তী দিন ফযরের নামায পড়া পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করতে হয়। এ সময়ের কাজ জামাতে নামায পড়া, জিকির করা এবং কোরআন পাঠ। পরদিন আরাফাতের ময়দানে অকুফ। জিলহজ্জ্ব মাসের নবম দিবস ইয়াওমে আরাফা বা আরাফাতের দিন।[৭] এ দিন মিনায় ফযরের নামায পড়ে রওনা হতে হয় এবং জোহরের নামাজেন পূর্বে আরাফাতের ময়দানে পেৌছেঁ মাগরিবের আযান পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। এ সময় মসজিদে নামিরাতে খুৎবা প্রদান করা হবে। মাগরিবের আযান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামায না পড়েই মুযদালফার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। মুযদালফায় পেৌছেঁ এক আযান এবং দুই ইকামতে পরপর মাগরিবের ও এশার নামায আদায় করতে হয়। মুযদালফায় সারারাত খোলা আকাশের নিকট কাটাতে হয়। এ সময় জামরায় নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কংকর নিক্ষেপ করে নিতে হয়। ঘুমানোর সময় মাথা যাতে না ঢেকে যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। যথাসময়ে তাহাজ্জুদ এবং ফযর নামায আদায় করে মুযদালফা ত্যাগ করেত হবে এবং মিনায় তাৎবুতে ফিরে আসতে হবে। মিনায় আসার পর জামরায় গিয়ে কঙকর নিক্ষেপ করতে হবে।

কংকর নিক্ষেপ
শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ

মিনার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত জামরাহ্ নামক স্থানে তিনটি খুঁটিতে পর-পর তিন দিন কংকর নিক্ষেপ করা হজ্জের আবশ্যকীয় অঙ্গ। প্রতি খুঁটিতে ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ করার বিধান রয়েছে। ১০ম জিলহজ্জ তারিখে অর্থাৎ মুযদালফায় রাত্রি যাপনের পর দিন কংকর নিক্ষেপের প্রথম দিবস। এ দিন শুধু একটি খুঁটিতেই ৭টি কংকর নিক্ষেপ করতে হয় (বড় শয়তান)। ১১ এবং ১২ জিলহজ্জ কংকর নিক্ষেপের ২য় এবং ৩য় দিবস। এ দুই দিনে পর পর ৩টি খুঁটিতে প্রতিটিতে ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ করতে হয়। ধারাবাকিতা, ফ্রথমে ছোট শযতান, পরে মেঝো শয়তান এবং শেষত বড় শয়তান। জামরাহ্ বা অন্যত্র থেকে কংকর সংগ্রহ করলে চলবে না। মুযদালফায় অবস্থানকালে ৪৯টি কংকর সংগ্রহ করে নিতে হয়। কংকরের আকার হবে মটর দানার চেয়ে একটু বড়, কিন্তু ঢেলার মতো বড় নয়। ৬-৭ ফুট দূরে থেকে নিক্ষেপ করে যথাস্থানে ফেলা যায় এরকম হতে হবে। যথাস্থানে না-পড়ে, খাম্বায় লেগে ফিরে এলে সেই নিক্ষেপটি গণ্য হবে না। আরেকটি নিক্ষেপ করতে হবে।

তাওয়াফ
কাবার চুতুর্দিকে তাওয়াফ করার দিক

ক্বাবা শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে শুরু করে একাদিক্রমে ৭বার ক্বাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করাকে বলে ‌‌‌তাওয়াফ। এটি হজ্জের একটি অপরিহার্য আঙ্গিক। তাওয়াফ শুরুর আগে নিয়ত করতে হয়। প্রথম ৩ চক্করে একটু দ্রুত চলতে হয় – এক বলে ‘রমল’। এ সময় ইহরামের কাপড় ডান কাঁধ থেকে নামিয়ে দিতে হয়। তাওয়াফের সময় দোওয়া পাঠ করতে হয়। তাওয়াফের সময় ক্বাবার গাত্রে স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। তবে রুকনে ইয়ামেনী স্পর্শ করা যায়। প্রতি চক্কর শেষে হযরে আসওয়াদ নামক বেহেশ্‌তী পাথরে চুম্বন করতে হয় বা ভীড়ের জন্য হাত ঠেকিয়ে হাতে চুম্বন করা সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারায় চুম্বন করতে হয়।

সাফা-মারওয়া

কাবা শরীফের অদূরে অবস্থিত দুটি টিলার নাম যথাক্রমে সাফা ও মারওয়া। এ দুটির মধ্যে দ্রুত গতিতে হেটেঁ একাদিক্রমে সাত বার যাতায়াত করতে হয়। কার্যত সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত ৪বার এবং মারওয়া ৩বার যেতে হয়। অর্থাৎ সাফায় শুরু হয়ে এই হাঁটা মারওয়ায় শেষ হয়। নিয়ত করে সাফা থেকে হাঁটা শুরু করতে হয়। মাঝামাঝি স্থানে যেখান থেকে ক্বাবা দৃষ্টিগোচর হয় সেখানে দ্রুত গতিতে চলতে হয়। হাটার সময় দোয়া দরূদ পাঠ করতে হয় এবং সমাপ্তির পর হাত তুলে মোনাজাত করতে হয়।

পশু কোরবানী

পশু কোরবানী হজ্জের একটি অপরিহার্য করণীয়। বিদেশী হাজীরা পশু ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ-কড়ি সঙ্গে নিয়ে যান। সৌদী সরকার হাজীদের পক্ষে পশু কোরবানীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। নির্দ্দিষ্ট ব্যাংকে কোরবানীর নির্দ্দিষ্ট অর্থ জমা দিতে হয়। তবে সেই সঙ্গে কোরবানীর সম্ভাব্য সময়ও জেনে নিতে হয়, কেননা পশু কোরবানীর পূর্বে কেশ মুণ্ডন করা যায় না। এছাড়া মিনা এবং মুযদালফার সংলগ্ন স্থানে পশু ক্রয় এবং জবেহ্‌ করার সুব্যবস্থা আছে। যে সকল হাজী স্বহস্তে কোরবানীতে আগ্রহী তারা এই ব্যবস্থার সুযোগ নিতে পারেন। ১০ই জিলহজ্জ কোরবানীর নির্ধারিত দিন। তবে ১২ জিলহজ্জ পর্যন্ত কোরবানী করা জায়েয। বা অনুমোদিত। কোরআন শরীফে সুরা বাকারায় হজ্জ বা উমরাকালে পশু কোরবানী সম্পর্কে নিম্নোক্ত নির্দ্দেশাবলী রয়েছে।[৮]

(১৯৬)আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যখন হজ্জ ও উমরাহ করার নিয়ত করো তখন তা পূর্ণ করো ৷ আর যদি কোথাও আটকা পড়ো তাহলে যে কুরবানী তোমাদের আয়ত্বাধীন হয় তাই আল্লাহর উদ্দেশ্যে পেশ করো ৷
(২০৯) আর কুরবানী তার নিজের জায়গায় পৌছে না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা নিজেদের মাথা মুণ্ডন করো না ৷
(২১০) তবে যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় অথবা যার মাথায় কোন কষ্ট থাকে এবং সেজন্য মাথা মুণ্ডন করে তাহলে তার ‘ফিদিয়া’ হিসেবে রোযা রাখা বা সাদকা দেয়া অথবা কুরবানী করা উচিত ৷
(২১১) তারপর যদি তোমাদের নিরাপত্তা অর্জিত হয়
(২১২) এবং তোমরা হজ্জের আগে মক্কায় পৌছে যাও ) তাহলে তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি হজ্জের সময় আসা পর্যন্ত উমরাহর সুযোগ লাভ করে সে যেন সামর্থ অনুযায়ী কুরবানী করে ৷ আর যদি কুরবানীর যোগাড় না হয়, তাহলে হজ্জের যামানায় তিনটি রোযা এবং সাতটি রোযা ঘরে ফিরে গিয়ে, এভাবে পুরো দশটি রোযা যেন রাখে ৷ এই সুবিধে তাদের জন্য যাদের বাড়ী-ঘর মসজিদে হারামের কাছাকাছি নয় ৷
(২১৩) আল্লাহর এ সমস্ত বিধানের বিরোধিতা করা থেকে দূরে থাকো এবং ভালোভাবে জেনে নাও আল্লাহ কঠিন শাস্তি প্রদানকারী ৷

কেশ মুণ্ডন

তাওয়াফের পূর্বে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাটা আবশ্যক। তবে লক্ষ‌্য রাখা আবশ্যক যে যেন মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাটার পূর্বেই পশু কোরবানী সমাধা হয়ে যায়। কোরআনে সুরা বাক্বারার ২০৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আর কুরবানী তার নিজের জায়গায় পৌছে না-যাওয়া পর্যন্ত তোমরা নিজেদের মাথা মুণ্ডন করো না ৷” এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরী। হজ্জের ৩য় দিবসে প্রথমবারের মতো কংকর নিক্ষেপের পর কেশ মুণ্ডন করতঃ মিনা থেকে মক্কায় যেততে হয় তাওয়াফে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে। মাথা পুরো চেঁছে ফেলা যায় ; বিকল্পে মাথায় যথেষ্ট চুল থাকলে কিছু অংশ ছেঁটে ফেলা যায়। তবে নারীরা মাথা চাঁছবে না, তারা কেবল চুলের গোছা থেকে খানিকটা ছেঁটে ফেলবেন।

উমরাহ
বিভিন্ন প্রকার হজ্ব

হজ্জ সম্পাদনের রীতি-নীতি অভিন্ন হলেও মক্কা নগরীতে গমনের সময় এবং হজ্জ ও উমরাহ পালনের পরম্পরার ভিন্নতার জন্য হজ্জ তিন প্রকার হতে পারে। এগুলো হলো হজ্জে এফরাদ, হজ্জে কেরান এবং হজ্জে তামাত্তু। হজ তিন প্রকার—তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ।

হজে তামাত্তু হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) উমরাহর নিয়তে ইহরাম করে, উমরাহ পালন করে, পরে হজের নিয়ত করে হজ পালন করাকে ‘হজে তামাত্ত’ু বলে।

হজে কিরান হজের মাসসমূহে একই সঙ্গে হজ ও উমরাহ পালনের নিয়তে ইহরাম করে উমরাহ ও হজ করাকে ‘হজে কিরান’ বলে।

হজে ইফরাদ শুধু হজ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে হজ সম্পাদনকে ‘হজে ইফরাদ’ বলে।
ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ

1. সহবাস এবং ওই বিষয়ে কোনো আলোচনা করা যাবে না। 2. পুরুষদের জন্য শরীরের আকৃতি নেয় এমন কোনো সেলাই করা জামা, পায়জামা ইত্যাদি পরা বৈধ নয়। 3. কথা ও কাজে কাউকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। 4. পুরুষদের ক্ষেত্রে মাথা বা মুখ ঢাকা যাবে না; এমনকি টুপিও পরা যাবে না। 5. মহিলাদের মাথায় অবশ্যই কাপড় রাখতে হবে, তবে মুখমণ্ডল স্পর্শ করে এমন কাপড় পরবেন না। 6. নখ, চুল, দাড়ি-গোঁফ ও শরীরের একটি পশমও কাটা বা ছেঁড়া যাবে না। 7. কোনো ধরনের সুগন্ধি লাগানো যাবে না। 8. কোনো ধরনের শিকার করা যাবে না। 9. ক্ষতিকারক সকল প্রাণী মারা যাবে। ক্ষতি করে না এমন কোনো প্রাণী মারা যাবে না।
হজ্বের আবশ্যকীয় আচারসমূহ

একটি সুনির্দ্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় হজ্বের আবশ্যকীয় আচারসমূহ পালন করতে হয়।

হজ্বের ফরজ তিনটি ১। নিয়ত করা ২। জিলহজ্বের ৯ তারিখে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ৩। তাওয়াফে জিয়ারত করা

হজের ওয়াজিব ছয়টি ১. ১০ জিলহজ রাতে সুবহে সাদিকের পর মুয্দালিফায় অবস্থান করা। ২. সাফা ও মারওয়া নামক পাহাড়দ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার সাঈ করা। ৩. মিনায় জামরাসমূহে (শয়তানের চিহ্ন) বেষ্টনীর মধ্যে রমি বা কঙ্কর নিক্ষেপ করা। ৪. হজে কিরান ও তামাত্তু পালনকারীর জন্য কোরবানি করা। ৫. মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছাঁটার মাধ্যমে ইহরাম খোলা। ৬. বহিরাগতদের জন্য অর্থাত্ মিকাতের বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা (বিদায়কালীন তাওয়াফ) সম্পন্ন করা। মনে রাখতে হবে যে যদি ওয়াজিবসমূহের কোনো একটি বাদ পড়ে যায় বা কোনো প্রকার ভুল হয়ে যায় তবুও হজ আদায় হয়ে যাবে, চাই ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক বা ভুলক্রমে হোক। তবে সে ক্ষেত্রে কোরবানি বা সদকার দ্বারা তার ক্ষতিপূরণ ওয়াজিব হবে।

হজের সুন্নত ১. মিকাতের বাইরের লোকদের মধ্যে যারা হজে ইফরাদ ও হজে কিরান আদায় করবে, তাদের জন্য তাওয়াফে কুদুম করা। ২. তাওয়াফে কুদুমে প্রথম তিন চক্করে রমল করা (অর্থাত্ সজোরে, দ্রুত ও তেজদৃপ্ত পায়ে, ছোট ছোট পা ফেলে, বুক ফুলিয়ে কাঁধ হেলিয়ে, প্রদর্শন করে তাওয়াফ করা)। যদি এই তাওয়াফে রমল না করা হয়, তবে তাওয়াফে জিয়ারত বা বিদায়ী তাওয়াফে তা করা। তবে মহিলারা রমল করবে না। ৩. ৮ জিলহজ দিবাগত রাতে মিনায় রাত যাপন করা। ৪. ৯ জিলহজে সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে গমন করা। ৫. আরাফাতে গোসল করা। ৬. আরাফাতের ময়দান থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার পরে রওনা হওয়া। ৭. আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে মুয্দালিফায় সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত রাত যাপন করা। ৮. মিনার কাজকর্ম সম্পাদনকালে মিনায় রাত যাপন করা। অর্থাত্ ৮, ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ দিবাগত রাতে মিনায় থাকা।

হজ্বের প্রস্তুতি

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ অক্টোবর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ১০ হাজার হজযাত্রী হজব্রত পালনের জন্য সৌদি আরব গমন করতে পারবেন। ভাষার ভিন্নতা, নতুন দেশ, নতুন পরিস্থিতি—বিবিধ কারণে কিছুসংখ্যক হজযাত্রী সমস্যায় পড়ে থাকেন। কয়েকবার হজ করার সুবাদে দেখেছি, কিছুটা ধারণা থাকলে, সচেতন হলে এসব সমস্যা দূর করা যায়। পাঠকের সুবিধার্থে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো। হজে যেতে চাইছেন, নিয়ত করুন, ‘হে আল্লাহ, আমার জন্য হজকে সহজ করো, কবুল করো।’ বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি দুভাবে হজে যাওয়া যায়। আপনার পরিচিত আত্মীয়স্বজন, বন্ধু কেউ আগে হজে গিয়ে থাকলে বা এলাকার কেউ হজে গিয়ে থাকলে তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেভাবেই হজে যান না কেন, হজ প্যাকেজের সুবিধা কী কী, ভালোভাবে বুঝে যাচাই করুন। কিছু খরচ নির্দিষ্ট আছে, যেমন বিমান ভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি। বাকি টাকা মক্কা-মদিনায় বাসস্থানের জন্য। ঘোষিত হজ প্যাকেজ অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হজযাত্রীর এবার খরচ হবে তিন লাখ তিন হাজার ৪৪০ টাকা। সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেভাবেই যান না কেন, কোথায়, কীভাবে থাকবেন, আগেই জেনে নিন। যেমন: মক্কার বাসার দূরত্ব নির্ধারিত হয় কাবা শরিফ থেকে। আর মদিনায় মসজিদে নববি থেকে। বাসস্থান কত দূর, তার ওপর নির্ভর করে টাকা। অর্থাৎ কাবা শরিফ থেকে বাসার দূরত্ব কম হলে খরচ বেড়ে যাবে। যত বেশি দূরত্ব হবে, খরচও তত কম হবে। চুক্তিপত্রে প্যাকেজ-সুবিধাগুলো বুঝে নিন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করুন। খাবার, কোরবানি প্যাকেজের বাইরে কি না, জেনে নিন। প্যাকেজে ফিতরা (ফিতরা মানে স্থানান্তর) পদ্ধতি থাকবে কি না, নিশ্চিত হয়ে নিন। হজে যাবেন। প্রয়োজনীয় বইপুস্তক, হজ গাইড সংগ্রহ করে পড়ুন। বেশ কয়েক বছর ধরে প্রথম আলো হজযাত্রীদের সহায়ক হজ গাইড প্রকাশ করে, বিনা মূল্যে তা বিতরণ করে। প্রথম আলোর কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। বিমানে ওঠার পর বাথরুম ব্যবহার, হাই কমোড, নামাজ আদায়, অজু, তায়াম্মুম কীভাবে করতে হয়, তা জেনে নিন। জানা থাকলে অন্যদের সহায়তা করুন। সৌদি আরবে মক্কার কাবা শরিফে বা মদিনার মসজিদে নববিতে প্রতিটি ফরজ নামাজের পর জানাজা হয়ে থাকে। জানাজার নিয়মকানুন জেনে নিন। আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরি করে নিন। পাসপোর্ট বা স্ট্যাম্প সাইজের ২০ কপি ছবি সংগ্রহে রাখুন। ক্রনিক ডিজিজ ডায়াবেটিস, হূদেরাগে যাঁদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, ৪৫ দিনের জন্য ওষুধ নিয়ে যেতে হবে। যাঁরা চশমা ব্যবহার করেন, আরেক সেট চশমা তৈরি করুন। কারণ, ভিড়ে চশমা ভেঙে যেতে পারে। সচেতনভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, মেনিনজাইটিস টিকাসহ অন্যান্য টিকা দিতে হয়। টিকা নির্দিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে নিয়ে সনদ সংগ্রহ করবেন। কারণ, জেদ্দা বিমানবন্দরে নামার পর ওই সনদ দেখাতে হয়। মাহরাম ছাড়া নারী হজযাত্রী এককভাবে হজে গমনের যোগ্য বিবেচিত হবেন না; নারী হজযাত্রীকে মাহরামের সঙ্গে একত্রে টাকা জমা দিতে হবে। বিমানে কোনো হজযাত্রী ৩০ কেজির বেশি মালামাল বহন করতে পারবেন না। সৌদি আরবে অবস্থানকালে বাসস্থানের বাইরে গেলে পরিচয়পত্র, মোয়াল্লেম কার্ড ও হোটেলের কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। কোরবানি করার জন্য ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের কুপন কেনা নিরাপদ। হজের আবেদন ফরম, চুক্তির ফরমসহ অন্যান্য ফরম হজ অফিস, ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা যাবে। হজের আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য ওয়েবসাইট www.hajj.gov.bd ঠিকানায় পাওয়া যাবে। হজ করতে আগ্রহী যাত্রীদের ২০ জুনের মধ্যে টাকা জমা দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো। কিছু হজযাত্রী হেঁটে হজের আমলগুলো করে থাকেন। যেমন, মক্কা থেকে মিনার দূরত্ব কমবেশি (আট কি.মি.)। আরাফাত থেকে মুজদালিফার দূরত্ব কমবেশি (নয় কি.মি.) মুজদালিফা থেকে মিনার দূরত্ব কমবেশি (৫ দশমিক ৫ কি.মি.) হেঁটে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। হজের ব্যয় বাবদ টাকা সোনালী ব্যাংক লি., অগ্রণী ব্যাংক লি., জনতা ব্যাংক লি., রূপালী ব্যাংক লি., পূবালী ব্যাংক লি., বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রাজশাহী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি., আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের যেকোনো শাখায় জমা দেওয়া যাবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে যথাসম্ভব কাছাকাছি (৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০ মিটার) ও মদিনায় মসজিদে নববি থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত বাড়িতে আবাসন, মক্কায় চার বর্গমিটার ও মদিনায় চার বর্গমিটার জায়গায় (বাস্তবে কমবেশি হতে পারে) একটি খাট, একটি বেড, একটি বালিশ ও একটি কম্বল (কক্ষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হবে, কোনো কোনো কক্ষে অতিরিক্ত পাখা থাকতে পারে), চার থেকে সাতজনের জন্য একটি সংযুক্ত সাধারণ গোসলখানা-টয়লেট, মিনায় তাঁবুতে প্রত্যেক হাজির জন্য এক বর্গমিটার জায়গা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের ময়দানে যাওয়া-আসার জন্য পরিবহন, মক্কা ও মদিনায় সাধারণ চিকিৎসা, ফ্লাইটের আগে ঢাকার আশকোনা হজ ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা, হজের আহকাম-আরকান সম্পর্কে নিবিড় প্রশিক্ষণ, বইপুস্তক সরবরাহ প্রভৃতি সুবিধা পাবেন হাজিরা। প্রতি ৪৫ জন হাজির জন্য একজন গাইড নিয়োগ করা হবে। খাওয়া খরচ বাবদ প্রত্যেক হজযাত্রীকে ১৮ হাজার ৩৭৫ টাকার সমপরিমাণ সৌদি রিয়াল ফেরত দেওয়া হবে। কোরবানি বাবদ ৫০০ রিয়াল (কমবেশি হতে পারে) নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনা: হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীপ্রতি ব্যয় বিমানভাড়া এক লাখ ২০ হাজার ৯৫০, জেদ্দা ডিপারচার ট্যাক্স এক হাজার ৫০, এম্বারকেশন ফি ৩০০, ইনস্যুরেন্স সার চার্জ ৮২০, এক্সাইজ ডিউটি ৫০০, স্থানীয় সার্ভিস চার্জ ৫০০, আপৎকালীন ফান্ড ১০০, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবু ভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২৪ হাজার ৩৩৯ টাকা। এ ছাড়া মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ, মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া ব্যয়, হজযাত্রীদের কোরবানির খরচ (কোরবানি নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরবে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকে অর্থ জমা করা যেতে পারে।) মক্কা, মদিনা ও মিনায় খাওয়ার খরচ, হজ গাইড ও প্রশিক্ষণ চার্জ প্রত্যেক এজেন্সি নিজ নিজ প্যাকেজ অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। আরও তথ্য জানতে হজ অফিসার, হজ অফিস, আশকোনা, উত্তরা, ঢাকা ছাড়াও প্রতিটি জেলায় উপপরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে তথ্য জানা যাবে। ফেরদৌস ফয়সাল: সাংবাদিক।

মসজিদে নববী জিয়ারত

মদিনা নগরীতে অবস্থিত মসজিদে নববী-তে গমন হজ্জ-এর কোন অংশ নয়। তবে মসজিদে নববীতে হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর রওযা বা কবর অবস্থিত। এই রওযা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে হাজীরা হজ্জ সম্পাদনের পূর্বে বা পরে মদিনা ভ্রমণ করেন এবং মসজিদে নববীতে গিয়ে মুহম্মদ (সাঃ)রওযা যিয়ারত করে থাকেন। হাদীস-এ আছেঃ মুহম্মদ (সাঃ)বলেছেন, যে মুসলমান ক্বাবা তাওয়াফের জন্য আগমন করে সে যেন তাঁর আল্লাহ্‌র রসুল মুহম্মদ (সাঃ) কবর যিয়ারতের সুযোগ গ্রহণ করে। উপরন্তু যে মুসলমান মসজিদে নববীতে একাধারে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন তাঁর জন্য হাশরের দিন রসুলহজরত মুহম্মদ (সাঃ) সুপারিশ করবেন।

মদিনার প্রাণকেন্দ্র মসজিদে নববী

ইসলামে ফজিলত লাভের উদ্দেশ্যে তিন মসজিদে ভ্রমণ করার অনুমোদন আছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো মক্কা মুকাররমা বা কাবা শরিফ (সৌদি আরব)। দ্বিতীয়টি হচ্ছে মসজিদ আল-আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস: ইসলামের প্রথম কিবলা মসজিদ (ফিলিস্তিন)। তৃতীয়টি হলো মদিনা আল-মুনাউওয়ারার মসজিদে নববী: নবীজিকে যেখানে চির শয়নে শায়িত করা হয়েছে। মদিনা নবীর শহর, একে আরবিতে বলা হয় ‘মদিনাতুন নবী’। আর মদিনার প্রাণকেন্দ্র হলো ‘মসজিদে নববী’। মদিনার ৯৫টি নাম রয়েছে, যেমন দারুস সালাম (শান্তির ঘর)। তা ছাড়া মদিনার ৯৯টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনার বরকতের জন্য দোয়া করেছেন, একে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করেছেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, ঘর থেকে অজু করে মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ পড়লে একটি উমরাহর সওয়াব পাওয়া যায়। মসজিদে নববীর ভেতরে স্বয়ংক্রিয় ছাদের ব্যবস্থা আছে, যা দিনের বেলা সুইচের মাধ্যমে খুলে দেওয়া হয় আর রাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মসজিদে নববীতে নারীদের জন্য আলাদা নামাজ পড়ার জায়গা আছে। ভেতরে কিছুদূর পরপর পবিত্র কোরআন মজিদ রাখা আছে, আর পাশে আছে জমজম পানি খাওয়ার ব্যবস্থা। পাশেই ‘জান্নাতুল বাকি’ গোরস্তান। এখানে হজরত ফাতেমা (রা.), বিবি হালিমা (রা.) ও হজরত ওসমান (রা.)সহ অগণিত সাহাবায়ে কিরামের কবর রয়েছে। এর একপাশে নতুন কবর হচ্ছে প্রত্যহ। এখানে শুধু একটি পাথরের খণ্ড দিয়ে চিহ্নিত করা আছে একেকটি কবর। মসজিদে নববীর উত্তর দিকের গেট দিয়ে বেরিয়েই সাহাবাদের মসজিদ। পাশাপাশি দু’টি এবং একটি একটু দূরে একই ডিজাইনে করা তিনটি মসজিদ। এগুলোকে ‘সাহাবা মসজিদ’ বলা হয়।

মসজিদে নববীতে সালাত আদায় ও দোয়া করার উদ্দেশ্যেই মদিনায় গমন এবং সালাত আদায় করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারত করা ও সালাম পৌঁছানোর ইচ্ছা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের থাকে। জিয়ারত ও নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মদিনায় যাওয়া সুন্নত। মসজিদে নববীতে নামাজ পড়ায় ফজিলত বেশি। মসজিদে নববীতে জিয়ারতের জন্য ইহরাম বাঁধতে বা তালবিয়া পড়তে হয় না। তবে মদিনা থেকে যদি মক্কায় আবার আসতে হয়, তাহলে মিকাত বীর আলী পার হলে ইহরাম বেঁধে আসতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক

উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.)-এর কক্ষেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত হয় এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। মসজিদ সম্প্রসারণ করার পর বর্তমানে তাঁর কবর মোবারক মসজিদে নববীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। রাসূলে করিম (সা.)-এর রওজা মোবারকের ডানদিকে ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর কবর। নবী করিম (সা.)-এর রওজা মোবারক সালাম পেশ করার নিয়ম কিবলার দিকে পিঠ করে নবী করিম (সা.)-এর চেহারা মোবারককে সামনে রেখে এমনভাবে দাঁড়াতে হবে, যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) আপনার সামনে। এ সময় পৃথিবীর যাবতীয় চিন্তাভাবনা থেকে দিলকে মুক্ত করে একমন, একদিল হয়ে অত্যন্ত আদবের সঙ্গে সালাম পেশ করতে হবে। এ রকম খেয়াল করতে হবে যে, নবী করিম (সা.) কবর মোবারকে কিবলার দিকে মুখ করে আরাম করছেন এবং সালাম-কালাম শ্রবণ করছেন।

গ্রন্থ সূত্র

সাঈদ আহমদঃ হজ্জ ও মাসায়েল‌‌ (মুয়াল্লিমুল হুজ্জাজ গ্রন্থের অনুবাদ। অনুবাদকঃ আবুল কালাম মোঃ আবদুল লতিফ চৌধুরী), এমদাদিয়া লাইব্রেরী, চকবাজার, ঢাকা, ৩য় সংস্করণ, ১৯৯৭ খ্রী।

তথ্যসূত্র

↑ Dalia Salah-El-Deen, Significance of Pilgrimage (Hajj)
↑ Atlas of Holy Places, p. 29
↑ বোখারি শরিফ
↑ মুসলিম শরিফ
↑ তাফসিরে মা-আরেফুল কুরআন
http://articles.ourislam.org/…/aaaaaaaa-aaaa—a…/Page1.html
http://forum.projanmo.com/viewtopic.php?id=3464
http://www.facebook.com/note.php?note_id=267119625432

শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ

Dear Please Subscribe With US

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

Best & Cheap Hotels

  • All Arab Hotel

    Very Cheap rate for Arab Visitor in any middle east country.

  • Kids Shop bangladesh

    4th Generation Modern stylist Baby's Item .

  • AllHotel Finder

    world wide 220 countries Hotel booking cheap rated from other competitor.

zilhajj Group

Hijri
0025852
Your IP: 54.145.94.234

মন্তব্য করুন

জিলহজ গ্রুপ বাংলাদেশ © 2016 zilhajjgroupZilhajjgroup.com Zilhajj Group
>
Facebook
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.