জিলহজ গ্রুপ বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান কারী হজ ও উমরাহ প্রতিষ্ঠান

Zilhajj Group

They request from you a [legal] ruling. Say, "Allah gives you a ruling concerning one having neither descendants nor ascendants [as heirs]." If a man dies, leaving no child but [only] a sister, she will have half of what he left. And he inherits from her if she [dies and] has no child. But if there are two sisters [or more], they will have two-thirds of what he left. If there are both brothers and sisters, the male will have the share of two females. Allah makes clear to you [His law], lest you go astray. And Allah is Knowing of all things.
An-Nisa’ (the Women): 176

Home

প্রশ্নউত্তরে হজ

বিভাগসমূহ

Our Package

প্রশ্ন : হজ্জের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল ও মুস্তাহাব সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর : হজ্জের ফরজ তিনটি :
১. মীক্বাত হতে ইহরাম বাধা।
২. ৯ই জিলহজ্জ তারিখ জোহরের পর হতে ১০ই জিলহজ্জের সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত ওকূফে আরাফা তথা আরাফার প্রান্তরে অবস্থান।
৩. ১০, ১১ বা ১২ জিলহজ্জ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে কাবা শরীফের তাওয়াফে জিয়ারত করা।
হজ্জের ওয়াজিব ৫টি :
১. ৯ই জিলহজ্জ তারিখ সূর্যাস্তের পর থেকে পরবর্তী বা’দ ফজর সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুযদালিফার প্রান্তরে অবস্থান করা।
২. সাফা-মারওয়া পাহাড় দু’টির মাঝখানে সাঈ করা।
৩. মিনাতে রমী করা অর্থাৎ শয়তানের উদ্দেশ্যে কংকর মারা।
৪. ইহরাম খোলার জন্য মাথা মুন্ডানো বা ছাটানো।
৫. বিদায়ী তাওয়াফ করা (মীক্বাতের বাহিরের বাসিন্দাদের জন্য)।
হজ্জের সুন্নাত ও মুস্তাহাব ১০টি :
১. তাওয়াফে কুদূম (হজ্জে ইফরাদ বা হজ্জে কিরানের জন্য)।
২. তাওয়াফে কুদূমের প্রথম তিন চক্করে রমল করা। আর তাওয়াফে কুদূমে রমল না করে থাকলে তাওয়াফে জিয়ারতে রমল করা।
৩. ৮ই জিলহজ্জ মক্কা হতে মিনায় গিয়ে জোহর, আসর, মাগরীব, ইশা ও ফজর এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং রাতে মিনায় অবস্থান করা।
৪. ৯ই জিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর মিনা হতে আরাফার ময়দানের দিকে রওনা হওয়া।
৫. ওকূফে আরাফার পর তথা হতে সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার দিকে রওনা হওয়া।
৬. ৯ই জিলহজ্জ দিবাগত রাত্রে মুযদালিফায় থাকা।
৭. ওকূফে আরাফার জন্য সেদিন জোহরের পূর্বে গোসল করা।
৮. ১০, ১১ বা ১২ জিলহজ্জ দিবাগত রাত্রগুলোতে মিনায় থাকা।
৯. মিনা হতে বিদায় হয়ে মক্কায় ফেরার পথে মুহাস্সাব নামক স্থানে কিছু সময় অবস্থান করা।
১০. ইমামের জন্যে তিন স্থানে খুতবা দেয়া। ৭ই জিলহজ্জ মক্কা শরীফে, ৯ই জিলহজ্জ আরাফায় ও ১১ই জিলহজ্জ মিনায়। [ফাতাওয়া আলমগীরী : ১/২১৯, ফাতাওয়া শামী : ২/৪৬৮-৪৬৭, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭০]
প্রশ্ন : আমার নিকট এই পরিমাণ জমি রয়েছে, যার মাধ্যমে আমার সারা বছরের জীবিকা উৎপন্ন হয়। এছাড়া আমার আর কোন ব্যবসা বাণিজ্য নেই। অবশ্য সমস্ত জমি অথবা তার কিছু অংশ বিক্রি করে দিলে হজ্জের ব্যবস্থা হতে পারে। এমতাবস্থায় জমি বিক্রি করে হজ্জ করা কি আমার উপর ফরজ?
মিনহাজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম।
উত্তর : যদি হজ্জের খরচ পরিমাণ জমি বিক্রি করার পরও আপনার মালিকানায় জীবিকা নির্বাহ করা যায় এই পরিমাণ জমি অবশিষ্ট থাকে তাহলে আপনার উপর হজ্জ ফরজ। [আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫৩২]
প্রশ্ন : তাওয়াফ করার সময় দৃষ্টি কোন দিকে রাখতে হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর : তাওয়াফ করার সময় কাবার দিকে মুখ বা পিঠ করা ঠিক নয়। বরং সিজদার দিকে অর্থাৎ নিচের দিকে চোখের দৃষ্টি রেখে তাওয়াফ করা মুস্তাহাব। তবে হাজরে আসওয়াদ বা সেদিকে হাত কিংবা লাঠি ইত্যাদি উঠিয়ে চুম্বনের সময় কাবার দিকে নজর করতে পারে। [আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫৪৭, মুআল্লিমুল হুজ্জাজ : ১৩০, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭২]
প্রশ্ন : আরাফাতের ময়দানে জোহর এবং আসরের নামাজ পড়ার নিয়ম কি?

উত্তর : আরাফাতের ময়দানে যদি মসজিদে নামিরাতে ইমাম সাহেবের সাথে নামাজ পড়ার সুযোগ পাওয়া যায় এবং একথাও জানা যায় যে, ইমাম মুসাফির, তাহলে জোহরের ওয়াক্তে জোহর ও আসর একত্রে পড়বে। আর যদি ইমাম মুকীম হওয়া সত্বেও কসর করে তাহলে হানাফীগণ তার ইক্তেদা করবে না। সেক্ষেত্রে বা অন্য কোন কারণে যদি ইমামের সাথে পড়ার সুযোগ না হয়, তাহলে মুসাফির হাজীগণ নিজ নিজ তাবুতে বা স্থানে জোহরের ওয়াক্তে জোহর ও আসরের ওয়াক্তে আসর কসর (দুই রাকাত করে) পড়ে নিবে। তারপর দাঁড়িয়ে উকূফে আরাফা আদায় করবে, কষ্ট হয়ে গেলে তখন বসে উকূফ করবে। উল্লেখ্য, অনেক খিমায় আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে আসরের আজান দিয়ে থাকে ঐ আজান শুনে আসর পড়বে না। হানাফী মাজহাব অনুযায়ী আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পর আজান দিয়ে নামাজ পড়বে। [ফাতাওয়া শামী : ২/৫০৫, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭২]
প্রশ্ন : ইহরাম অবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ?

উত্তর : ইহরাম অবস্থায় নি¤েœাক্ত কাজগুলো করা নিষেধ
১. শরীরের গঠনের ভিত্তিতে সেলাই করা কোন কাপড় পরিধান করতে পারবে না। তবে মহিলাদের জন্য এ হুকুম নয়।
২. পুুরুষেরা মাথা ও মুখ ঢাকবে না। মহিলার মাথা ঢাকবে কিন্তু পর্দা বজায় রেখে মুখ স্পর্শ করে এমন নেকাব লাগাতে পারবে না। তবে মুখ থেকে একটু দূরে থাকে এমন নেকাব দ্বারা পর্দা রক্ষা করতে হবে।
৩. চুল কাটতে, ছিড়তে বা পশম টেনে তুলতে পারবে না।
৪. চুল-দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুল চালাবে না, তাতে চুল-দাড়ি উঠতে বা ছিড়ে যেতে পারে।
৫. নখ কাটবে না।
৬. সুগন্ধি সাবান, তেল, আতর ও ¯েœা-পাউডার ইত্যাদি প্রসাধনী ব্যবহার করবে না।
৭. যৌন আলাপ-আলোচনা বা আচরণ করবে না।
৮. স্ত্রী সহবাস করবে না।
৯. কোন প্রাণী শিকার করা নিষেধ। এমনকি মশা, মাছি, উকুন ও ছারপোকাও মারা নিষেধ।
১০. ঝগড়া-বিবাদ করা নিষেধ।
১১. হেরেম শরীফ এলাকায় কোন প্রকার ঘাস ও লাতা-পাতা ছিড়া নিষেধ। এমনকি গাছের ডাল ভাঙ্গাও নিষেধ।
১২. পায়ের উপরের পাতা ঢেকে যায় এমন জুতা বা সেন্ডেল পরা নিষেধ।
১৩. সমস্ত গোনাহের কাজ করা নিষেধ। [হিদায়া : ১/২৩৮-৩৯, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭৬]
প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি সুদ-ঘুষের টাকা গ্রহণ করে সম্পদশালী হয়েছে। বর্তমানে সে নিয়মিত নামাজ, রোজা ও জাকাত আদায় করছে এবং অন্যান্য শরয়ী আহকামও মেনে চলছে। এখন সেই ব্যক্তি ঘুষের টাকা দ্বারা হজ্জ আদায় করতে পারবে কি-না? এবং হারাম মাল থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় কি?

উত্তর : কারো নিকট যদি শুধু হারাম মাল থাকে, তাহলে উক্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরজ হবে না। আর কারো নিকট যদি হালাল-হারাম মিশ্রিত মাল থাকে, তাহলে দেখতে হবে সে সমস্ত মাল হতে হারাম মালের অংশ পৃথক করলে অবশিষ্ট হালাল মাল যদি এ পরিমাণ হয় যে, তাতে হজ্জ ফরজ হয়- তাহলে উক্ত ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরজ হবে। অন্যথায় তার উপর হজ্জ ফরজ হবে না। আর হজ্জ ফরজ হওয়ার পর তার হালাল মাল দ্বারাই হজ্জ করা জরুরী। কিন্তু কারো নিকট হজ্জ পরিমাণ হালাল মাল থাকায় তার উপর হজ্জ ফরজ হওয়ার পর হজ্জের সময় যদি হালাল মাল হাতে না থাকে, তাহলে এমন ব্যক্তির হজ্জ আদায়ের উত্তম পন্থা এই যে, সে প্রথমতঃ কারো নিকট থেকে হজ্জ আদায় করা যায়, এ পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়ে হজ্জ আদায় করবে। এরপর হালাল মাল দ্বারা উক্ত ঋণ পরিশোধ করতে চেষ্টা করবে। আর যদি তা সম্ভব না-ই হয়, তাহলে উক্ত হারাম মাল দ্বারাই ঋণ পরিশোধ করবে এবং এজন্য আল্লাহ তা’আলার দরবারে ইস্তিগফার করতে থাকবে। আর যদি কেউ হারাম মাল দ্বারা হজ্জ আদায় করে ফেলে, তাহলে সে ব্যক্তি গোনাহগার হবে বটে, তবে হজ্জের দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। কিন্তু এরূপ হজ্জ আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। অর্থাৎ এরূপ হজ্জে কোন সওয়াব হবে না। হারাম মাল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নাজায়িজ। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব এর থেকে মুক্ত হতে হবে। আর এ থেকে মুক্তি লাভের উপায় হচ্ছে, উক্ত হারাম মালের মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে মালিকের নিকট উক্ত মাল পৌঁছে দেয়া ওয়াজিব। অন্যথায় সওয়াবের আশা না করে গরীব মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দেয়া। উল্লেখ্য যে, উক্ত হারাম মালের পরিমাণ পুরোপুরি স্মরণ না থাকলে, নিজের প্রবল ধারণার ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করতে হবে। [ফাতাওয়া শামী : ২/৪৫৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ২/১৪ ও ১৬০, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৩/১৯২, ফাতাওয়ায়ে রাহীমিয়া : ৩/১১৬, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৪]
প্রশ্ন : বর্তমান জমানায় হজ্জে মহিলাদের বেপর্দা অবস্থায় ঘোরাঘুরী লক্ষ করা যায়। এমতাবস্থায় হজ্জে মাকবুলের সুরত কি? সঠিক সমাধান চাই।

উত্তর : যে হজ্জের মধ্যে কোন রকম গুনাহের কাজ হয় না অথবা যে হজ্জের মধ্যে রিয়া বা বড়াই এর উদ্দেশ্য থাকে না তাকে সম্পূর্ণরূপে হজ্জে মকবুল বা হজ্জে মাবরূর বলে। ইচ্ছে করে কোন গুনাহের কাজ করলে হজ্জ সম্পূর্ণরূপে কবুল হওয়ার আশা করা যায় না।
অতএব, হজ্জে মকবুল হাসিল করতে হলে নিজ চক্ষু ও অন্তরকে কুদৃষ্টি ও কুমন্ত্রণা থেকে বিরত রাখতে হবে। এর পরেও যদি অনিচ্ছা সত্বেও সামনে বেপর্দা মহিলা এসে যায় তাহলে তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিবে। এতে আর গুনাহ হবে না এবং হজ্জে মকবুলের সওয়াবও পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। [সূরা বাকারা : ১৯৭, বুখারী : ১/২০৬, মিশকাত : ২৬৯, কাওয়ায়িদুল ফিকহ : ২৫৯, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৫]
প্রশ্ন : জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর যে তাকবীরে তাশরীক পড়া হয়, তা হানাফী মাজহাব অনুযায়ী প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর কতবার পড়া উচিত এবং মহিলাদেরও পড়তে হবে কি-না? মেহেরবানী করে কিতাবের হাওলাসহ জানাবেন।

উত্তর : জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর জামাতে হোক বা একাকী হোক, প্রাপ্ত বয়স্ক প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য হানাফী মাজহাব অনুযায়ী একবার তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। অবশ্য পুুরুষ লোকদের জন্য উক্ত দু’আ উচ্চঃস্বরে পড়া জরুরী। আর মহিলাদের আস্তে পড়তে হবে। [হিদায়া : ১/১৭৪-১৭৫, ইমদাদুল আহকাম : ১/৬৭২, রদ্দুল মুহতার : ২/১৮০, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৬]
প্রশ্ন : যে কোন খাদ্য দ্রব্য ও পানীয় বসে খাওয়া আদব। কিন্তু জমজম কুপের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয় কেন? আর এ পানি পান করার সময় কি দু’আ পড়তে হয়?

উত্তর : সব ধরনের খাদ্য দ্রব্য ও পানীয় বসে খাওয়া সুন্নাত। আর জমজম কুপের পানিও বসে পান করলে কোন গুনাহ হবে না। তবে আদবের খেলাফ হবে। কেননা, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও বরকতময় পানি। এ পানি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পান করতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালীম দিয়ে গেছেন। সুতরাং এটা মুস্তাহাব।
মোদ্দাকথা, যে আমল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে প্রমাণিত আছে, সেটা সেভাবে করাই সুন্নাত। সেখানে আমাদের বিবেক বিবেচনা অর্থহীন।
জমজম কুপের পানি পান করার সময় এ দু’আ পড়া সুন্নাত :

[কিফায়াতুল মুফতী : ৯/১০৯, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৬]
প্রশ্ন : টিভিতে প্রচারিত হজ্জের কার্যসমূহ দেখার ব্যাপারে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন বাধা আছে কি-না? যদি নিষেধ থাকে, তাহলে কেন? আর সরাসরি সম্প্রচার করা বা পূর্বে ভিডিও করে সম্প্রচার করার মাঝে কোন পার্থক্য আছে কি-না? বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক।

উত্তর : বর্তমানে প্রচলিত টিভিতে কোন অনুষ্ঠান দেখা বা দেখানোর অনুমতি শরীয়তে নেই। বরং সকল প্রকার অনুষ্ঠান দেখাই কবীরা গুনাহ ও হারাম। যদিও সেটা ইসলামী অনুষ্ঠান হয়। সুতরাং হজ্জের কার্যাবলীও টিভিতে দেখা জায়িজ হবে না। সরাসরি সম্প্রচার হোক অথবা পূর্বে উক্ত দৃশ্য যন্ত্রের সাহায্যে ধারণ করে পরে সম্প্রচার করা হোক। এতদুভয়ের মাঝে কোন তফাৎ নেই। কেননা, ফিল্ম কোম্পানী এ কাজ করতে যে সকল যন্ত্র ব্যবহার করে থাকে, সবই খেল-তামাশার বস্তু। আর এমন বস্তুকে দ্বীনের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে প্রবেশ করানো দ্বীনের অবমাননা ও দ্বীনকে তামাশার বস্তুতে পরিণত করার নামান্তর। আর এতদ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ভয়াবহ আজাবের কথা ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
তাছাড়া হজ্জের অধিকাংশ কার্যক্রমই হল আমলে তা’আব্বুদী তথা শরীয়ত কর্তৃক অবধারিত হুকুম। যার মাঝে যুক্তির বিন্দুমাত্র অবকাশও নেই। সুতরাং ইসলাম বিরোধীরা যখন এ ধরণের বিষয় টিভিতে দেখবে, তখন তারা অহেতুক যুক্তির পেছনে পড়ে নিজেরদের শরীয়ত বিরোধী দাবীসমূহ প্রমাণের অপপ্রয়াস চালাবে। আর দ্বীনের এসব বিষয় নিয়ে উপহাস করতে থাকবে।
শুধু তাই নয়; বরং হজ্জের অনুষ্ঠান দেখার সময় বেগানা মহিলাদের চেহারা থেকে মুক্ত থাকাও সম্ভব নয়। যেমন, অনুষ্ঠান আরম্ভ হওয়ার ঘোষণা সাধারণত মেয়েরাই দিয়ে থাকে। অতঃপর মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিষের নাজায়িজ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়ে থাকে। সেগুলো দর্শন করা শরীয়ত সম্মত নয়।
প্রকাশ থাকে যে, টিভির অনুষ্ঠানমালা যদি পূর্বে ধারণ করে সম্প্রচার করা হয়, তাহলে সেটা ফটো ও ছবি ব্যবহার করার হুকুমে পড়বে- যা সম্পূর্ণ হারাম। পক্ষান্তরে যদি পূর্বে ধারণ না করে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, তাহলে দ্বীন ও ইবাদতকে তামাশার বস্তুতে রূপান্তরিত করার কারণে তা নাজায়িজ হবে।
[সূরা লোকমান : ৬, সূরা নূর : ৩০-৩১, মিশকাত : ২/২৭০, ইমদাদুল মুফতীন : ২/৯৯১, জাওয়াহিরুল ফিকহ : ৪/৮৫-৮৬, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ৯/৪১৮-৪১৯, নিযামুল ফাতাওয়া : ২/৯৯-১০১, ফাতাওয়া রহীমিয়া : ৬/২৯২-৩০০, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৬-৪৮৭]
প্রশ্ন : কোন মহিলা নিজের মেয়ের স্বামীকে অর্থাৎ জামাতাকে নিয়ে হজ্জে যেতে পারবে কি?

উত্তর : নারীরা হজ্জে যেতে হলে স্বামী বা দ্বীনদার মাহরাম তথা এমন পুরুষ লোক, যাদের সাথে বিবাহ বৈধ নয়, তাদেরকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। মাহরাম নিজের বংশের কারণে, বিবাহের কারণে এবং দুধের কারণে হয় এ হিসেবে মেয়ের স্বামীকে নিয়ে হজ্জে যেতে পারবে। তবে বৈবাহিক এবং দুধপান সূত্রের মাহরামদেরকে নিয়ে বর্তমান ফিতনা ফাসাদের জমানায় হজ্জে যাওয়া হতে পরহেজ করা উচিত। তাই মেয়ের স্বামীকে নিয়ে হজ্জে না যাওয়াই শ্রেয় হবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যদি পিতা, ভাই বা দ্বীনদার স্বামী না পায়, তবে উক্ত মহিলাকে তার পক্ষ হতে বদলী হজ্জের ওসিয়ত করে যাওয়া জরুরী। [মু’আল্লিমুল হুজ্জাজ : ৮৬, শামী : ২/৪৬৪, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৭৪]
প্রশ্ন : যদি কেউ দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে তার ফরজ হজ্জ আদায় করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে কোন্ ধরণের লোককে দিয়ে তার বদলী হজ্জ করাবে? বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর : ফরজ হজ্জের বদলী এমন ব্যক্তিকে দিয়ে করানো উত্তম, যিনি পূর্বে নিজে ফরজ হজ্জ আদায় করে নিয়েছেন। আর যদি এমন ব্যক্তিকে দিয়ে করানো হয়, যিনি পূর্বে নিজে ফরজ হজ্জ আদায় করেননি, তবে তার মাসাইল সম্পর্কে ভাল জ্ঞান আছে, তাহলেও যে পাঠাবে তার বদলী হজ্জ আদায় হবে। তবে যিনি পূর্বে হজ্জ করেছেন তাকে দিয়ে করানোই উত্তম। অবশ্য নফল হজ্জের বদলী যে কোন ব্যক্তিকে দিয়েই করানো যায়। যদি সে সজ্ঞান, সাবালক মুসলমান হয় এবং হজ্জের মাসাইল সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হয়, তবে এমন ব্যক্তির জন্য বদলী হজ্জে যাওয়া জায়েজ নয়; যার নিজের উপর হজ্জ ফরজ এবং সেই ফরজ সে এখনও আদায় করেনি। কেননা, যার উপর হজ্জ ফরজ হয়েছে, তবুও সে তা আদায় করল না, বরং তার ফরজ হজ্জ আদায়ে অবহেলা করল। এমন ব্যক্তির দ্বারা অন্যের বদলী হজ্জের হক কতটুকুই বা পালন হতে পারে?
উল্লেখ্য, যিনি বদলী ফরজ হজ্জ আদায় করবেন, তার হজ্জে ইফরাদের নিয়ত করা উত্তম। তবে হজ্জে কিরানের অনুমতি পাওয়া গেলে তাও করতে পারেন। তবে কুরবানী নিজের পক্ষ থেকে করতে হবে। প্রেরণকারীর দেয়া জরুরী নয়। কিন্তু কোন ক্রমেই হজ্জে তামাত্তু- এর নিয়ত করবে না। আর যেহেতু হিসাব রেখে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেয়ার অনেক ঝামেলা হয়, এ জন্য প্রেরণকারীর নিকট থেকে প্রদত্ত টাকা খরচের সাধারণ অনুমতি নেয়া উত্তম। [আলমগীরী : ১/২৫৭, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া : ১/৪৮৩]

Dear Please Subscribe With US

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

Best & Cheap Hotels

  • All Arab Hotel

    Very Cheap rate for Arab Visitor in any middle east country.

  • Kids Shop bangladesh

    4th Generation Modern stylist Baby's Item .

  • AllHotel Finder

    world wide 220 countries Hotel booking cheap rated from other competitor.

zilhajj Group

Hijri
0025852
Your IP: 54.145.94.234

জিলহজ গ্রুপ বাংলাদেশ © 2016 zilhajjgroupZilhajjgroup.com Zilhajj Group
>
Facebook
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.