মহিলা হাজী সাহেবদের জন্য ইহরামের পোষাক কি এই বিষয়ে হজ বা ওমরাহের জন্য জানা জরুরী ।তাই আসুন জেনে নেই ।
মেয়েদের ইহরামের কাপড় কী ধরনের হওয়া চাই?
নারীদের ইহরামের জন্য বিশেষ কোন পোশাক নেই। মেয়েরা সাধারণতঃ যে কাপড় পরে থাকে সেটাই তাদের ইহরাম। তারা নিজ ইচ্ছা মোতাবেক ঢিলেঢালা ও শালীন পোষাক পরবে। তবে যেন পুরুষের পোষাকের মত না হয়। এটা কাল, সবুজ বা অন্য যে কোন রঙের হতে পারে।
মহিলাদের জন্য ইহরাম কী?
নারীরা হজ ও ওমরা পালনের জন্য ইহরামের পোশাক হিসেবে যে কোনো ধরনের শালীন পোশাকই পরিধান করতে পারবে। নারীর জন্য নিজের স্বাভাবিক পোশাকই হলো ইহরাম। আইশা (রা.) বলেন, عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: ” الْمُحْرِمَةُ تَلْبَسُ مِنَ الثِّيَابِ مَا شَاءَتْ ‘নারীরা ইহরাম অবস্থায় নিজ অভিরুচি মাফিক পোষাক পরতে পারবেন। ’ [আল—বাইহাকি, আস—সুনান আল—কুবরা, ৯১২২]
তবে তাদের পোশাক নির্বাচনে কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি। আর তা হলো—
- ভালোভাবে সতর ঢাকা যায় এমন পোশাক পড়া
- পর্দার খেলাপ এবং কু—দৃষ্টি ও ফেতনার আশংকা হয় এমন পোশাক না পড়া
- আঁট—সাঁট, ফিটিংস; শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে এমন পোশাক পরিধান না করা
- খুব রংচটে পোশাক পরিধান না করা।
মহিলা হাজী সাহেবদের জন্য ইহরামের পোষাক :
ইহরামের প্রস্তুতির জন্য পুরুষরা যা যা করে মহিলারাও সেগুলো করবে। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, গোসলের পর মহিলারা নিজেদের স্বাভাবিক কাপড় তথা ঢিলেঢালা ফুল হাতার কামিজ ও সেলোয়ার পরবে। এরপর এমন বোরকা পরবে যা চেহারা আবৃত করে । কারণ, পরপুরুষের সামনে চেহারা খোলা রাখা হারাম। (যে-সব মহিলা চেহারা খোলা রাখবে এবং যে-সব পুরুষ ইচ্ছাকৃত তাদের দিকে তাকাবে, তাদের গুনাহ হবে। ফলে তাদের ‘হজ্জে মাবরুর’ নসীব হবে না।) কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে মুখ ঢাকার জন্য যে নেকাব পরা হবে, তা যেন চেহারায় লেগে না থাকে। সেজন্য আমাদের দেশে- বাইতুল মুকাররামসহ আরো অনেক জায়গায় ক্যাপের মত একটা জিনিষ পাওয়া যায়, কিন্তু ক্যাপের সামনের অংশ যত লম্বা ততো লম্বা নয় বরং এক দেড় ইঞ্চির মত লম্বা হবে, দেখতে অনেকটা ২/৩ তারিখের চাঁদের মত সেটা পরে তার উপর দিয়ে নেকাব পরবে। তাহলে পর্দাও হয়ে যাবে আবার নেকাব চেহারার সাথে লেগেও থাকবে না। মহিলারা হজ্জ বা উমরার নিয়তের পরে তালবিয়া পুরুষদের মতই তিনবার পড়বে, তবে উচ্চ স্বরে নয়, নিম্ন স্বরে।
মহিলারা হায়েয-নেফাস অবস্থায়ও ইহরাম বাঁধতে পারবে। তবে তখন পরিচ্ছন্নতা অর্জনের জন্য গোসল করা ভালো।
(মানাসিকে মোল্লা আলী কারী পৃ.৯০)
বি.দ্র. অনেকে মনে করে যে, ইহরাম অবস্থায় মেয়েদের চেহারা খোলা রাখতে হয়। এটা মারাত্মক ভুল। এক ফরয আদায় করতে গিয়ে আরেক ফরয তরক করার শামিল। তাই আমরা যেভাবে চেহারা ঢাকার কথা বলেছি সেভাবে ঢাকতে হবে। অন্যথায় গুনাহ হবে।

ইহরাম অবস্থায় মহিলারা চেহারা ঢাকতে পারবে কি?
নারীরা মুখমণ্ডল এবং হাতের কব্জি খোলা রাখা নিয়ম। তারা নেকাব বা বোরকা দ্বারা মুখমণ্ডল ঢাকা রাখতে পারবেন না। ইবন উমর (রা.) হতে বর্ণিত, وَلاَ تَنْتَقِبْ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ وَلاَ تَلْبَسْ الْقُفَّازَيْنِ “ইহরাম অবস্থায় নারীরা মুখ ঢাকবে না এবং হাতে মোজা পরবে না।’’
[তিরমিজী, আস—সুনান, ৮৩৩]
তবে গায়ের মাহরাম পুরুষদের সামনে বা মাঝে গেলে তখন মুখমণ্ডল আবৃত করবেন। আইশা (রা.) বলেন, عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْرِمَاتٌ، فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ “অনেক কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তখন আমরা রাসূলুলুল্লাহ (সা.)—এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তারা আমাদের সামনা—সামনি আসলে আমাদের নারীরা নিজ মুখাবরণ মাথা থেকে নামিয়ে নিজ মুখমন্ডল ঢেকে ফেলতেন। অতঃপর তারা অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখ খুলতাম।” [আবূ দাউদ, আস—সুনান, ১৮৩৩]
মহিলাদের বিশেষ কিছু মাসায়েল
* মহিলারা পায়ের পাতা ঢেকে ফেলে, এমন জুতা, হাত ও পায়ের মোজা, জাঙ্গিয়া-পেন্টি ইত্যাদি পরতে পারবে। মানাসিক পৃ. ১১৫
* মাসিক বা সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব চলাকালীনও ইহরাম বাঁধতে পারবে। তাওয়াফ, নামায, কুরআন তিলাওয়াত ও মসজিদে প্রবেশ ব্যতীত ঐঅবস্থায় হজ্জের অন্যান্য সব কাজই করতে পারবে। মানাসিক পৃ.৯০
* স্বর্ণ ও অন্যান্য অলংকার পরতে পারবে। তবে ইহরাম অবস্থায় অলংকার না পরাই ভালো। মানাসিক পৃ.১১৬
* ইহরাম অবস্থায় চুলে তেল দেওয়া, সিঁথি করা নিষেধ। চুল বেধেঁ রাখতে পারবে। তবে চুল না আঁচড়ানোর কারণে যদি খুববেশি সমস্যা হয়, চুলে জট লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়, তাহলে সাজসজ্জার নিয়ত ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী বড় দাঁতের চিরুনী দ্বারা চুল আঁচড়ানো যাবে। মানাসিক পৃ.১২৪, গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৮৯-৯০
* কালো বোরকা ব্যবহার করতে পারবে। অনেকে সাদা বোরকা ব্যবহার জরুরী মনে করে। এধারণা মোটেও ঠিক নয়। মানাসিক পৃ.১১৫
* মেহেদি, লিপস্টিক ঘ্রাণমুক্ত হলেও ব্যবহার করা যাবে না। গুনইয়াতুন নাসিক পৃ.৯০
* মক্কায় অবস্থানকালে মহিলারা হজ্জের ইহরাম বাসাতেই বাঁধবে। মহিলাদের ইহরামের জন্য মসজিদে হারামে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মানাসিক পৃ. ১১৫
* চুল ধোয়ার জন্য সুগন্ধি শ্যাম্পু ব্যাবহার করা যাবে না। বর্তমান বাজারের সব শ্যাম্পুই সুগন্ধিযুক্ত তাই ইহরাম অবস্থায় শ্যাম্পু ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কিতাবুল মাসাইল ৩/১৬৩
ইহরামের অবস্থায় মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি করবে?
উমরা করতে গিয়ে পূর্বেই মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে পবিত্রতার অপেক্ষা করবে। সফর করা জরুরী হলে ইহরাম অবস্থায় থেকে সফর করে পুনরায় ফিরে এসে উমরাহ আদায় করবে। কিন্তু বহির্দেশের হলে খরচ, ভিসা ইত্যাদির ঝামেলা থেকে বাঁচতে উমরাহ করে নিতে পারবে। অর্থাৎ ভিসা শেষ হওয়ার ভয় থাকলে লজ্জাস্থানে প্যাড বেঁধে তাওয়াফ ও সাঈ করে চুলের কিছু অংশ কেটে উমরা সম্পন্ন করে হালাল হয়ে যাবে। যেহেতু ঐ সময় তাওয়াফ করা তাঁর জন্য জরুরী প্রয়োজন। আর অতি প্রয়োজনে ও অসুবিধার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ জিনিস বৈধ হয়ে যায়।
[ফাতাওয়া ইবন উসাইমীন, ২/৬৪৩]
তবে হজ্জের উমরাহ হলে হজ্জের কাজ সম্পন্ন করার পর উমরা করে নিবে, যেমনটা আইশার (রা.) ক্ষেত্রে নবী (সা.) নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বর্তমানে মহিলাদের মাসিক সাময়িক আটকে দেয়া বা পিছিয়ে দেয়ার নিরাপদ চিকিৎসা ও ঔষধ রয়েছে। বিশ্বস্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উমরার জন্য পরিকল্পনা নেয়া দিনগুলোতে মাসিক আটকে দেয়া বা পিছিয়ে দেয়া বৈধ হবে।
[ফাতাওয়া ইবন উসাইমীন, ২/১৮৫]
ইহরাম অবস্থায় নারীরা কী নিকাব ও হাত মোজা পরতে পারবে?

উপরোক্ত নিকার বা ক্যাপ ক্রয় করতে পারেন এখান থেকে
তবে ইহরাম অবস্থায় নিকাব বা অনুরূপ কোন পোশাক দিয়ে সর্বক্ষণ চেহারা ঢেকে রাখা বৈধ নয়। ইবন উমর (রা.) হতে বর্ণিত, وَلاَ تَنْتَقِبْ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ وَلاَ تَلْبَسْ الْقُفَّازَيْنِ “ইহরাম অবস্থায় নারীরা মুখ ঢাকবে না এবং হাতে মোজা পরবে না।’’ [তিরমিজী, আস—সুনান, ৮৩৩]
হজের সময় নিকাব দিয়ে নারীর মুখ ঢাকার বিধান কী? আমি একটি হাদীস পড়েছি যার অর্থ হচ্ছে “ইহরামকারী নারী নেকাব পরবে না এবং হাতমোজা পরিধান করবে না।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার অন্য একটি কথা পড়েছি। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে কোনো পুরুষ এলে আমরা মুখের উপর কাপড় ঝুলিয়ে দিতাম। যখন আমরা ওদের সামনে চলে যেতাম, তখন মুখমণ্ডল খুলে রাখতাম” সে সময় তারা হজে ছিলেন। দু’টি হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য কী?
উত্তর :
এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, হাদীসের মর্ম অনুযায়ী নারী ইহরাম অবস্থায় নেকাব পরবে না। পুরুষ তার সম্মুখে আসুক বা না আসুক কোনো অবস্থাতেই তার জন্য নেকাব ব্যবহার করা জায়েয নয়। সে হজে থাক বা উমরায়। নেকাব নারী সমাজে সুপরিচিত। আর তা হচ্ছে একটি পর্দা দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে নেওয়া যাতে দু‘চোখের জন্য আলাদা আলাদা দু’টি ছিদ্র থাকে। কিন্তু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীস নেকাব নিষিদ্ধের হাদীসের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ নয়। কেননা আয়েশার হাদীসে একথা বলা হয় নি যে, তারা নেকাব পরতেন; বরং নেকাব না পরে মুখ ঢেকে ফেলতেন। আর পরপুরুষ সামনে এলে নারীদের মুখ ঢেকে ফেলা ওয়াজিব। কেননা মাহরাম নয় এমন পুরুষের সামনে নারীর মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
অতএব, ইহরামের ক্ষেত্রে সবসময় নেকাব পরিধান করা হারাম। আর পরপুরুষ সামনে না এলে মুখমণ্ডল খোলা রাখা ওয়াজিব। কিন্তু সামনে এলে ঢেকে ফেলা ওয়াজিব। তবে নেকাব ছাড়া অন্য কাপড় ঝুলিয়ে দিতে হবে।

📍আমরা আপনাদের সেবা দেওয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছি।
✅ আলহাম্মদুল্লিলাহ আমরা শতভাগ কথা কাজে মিল রাখতে চেষ্টা করি।
▶️দীর্ঘ ২ যুগ ধরে বিশ্বস্ততার সাথে কাবার মেহমান হজ ও উমরাহ হাজীদের খেদমতে আছি, আমরা জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ।
.⏹️একঝাক তরুন ও উদ্দোমী,আলেম, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন টীমের মাধ্যমে জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ পরিচালিত হয়।
জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ
আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট
যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991
▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।
▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক হোয়াটসএপ গ্রুপে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে

