প্রথম কদম রাখতেই…

আপনি যখন মসজিদে হারামে প্রবেশ করে কাবার উত্তর দিকে এগোবেন, তখন সাদা মার্বেল পাথরের একটি অর্ধবৃত্তাকার দেয়াল আপনার চোখে পড়বে।
- উচ্চতা: প্রায় ৪.৯ ফুট (দেড় মিটার)।
- পুরুত্ব: প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার (৩০ ইঞ্চি)।
- অবস্থান: ধনুকের মতো বাঁকানো এই দেয়ালের দুই প্রান্ত কাবার মূল দেয়াল থেকে প্রায় ৬ ফুট দূরত্বে অবস্থিত।
- বৈশিষ্ট্য: এটি ছাদহীন এবং এর ওপরের আকাশ উন্মুক্ত। দেয়ালের মাঝখানে এবং দুই কোণায় তিনটি বড় সবুজ আলো জ্বলে।
এটিই হলো হাতিম, যাকে হিজরে ইসমাইল বলা হয়। এক মুহূর্ত স্থির হয়ে অনুভব করুন—আপনি কাবার ভেতরেই দাঁড়িয়ে আছেন, বাইরে নয়।

এটি কাবার অংশ: হাদিসের প্রমাণ

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বিভিন্ন হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, হাতিম মূলত কাবারই অংশ। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমার সম্প্রদায়ের কাছে (কাবা পুনর্নির্মাণের সময়) অর্থের ঘাটতি পড়েছিল। যদি তারা নতুন মুসলমান না হতো, তবে আমি কাবাকে ইব্রাহিম (আ.)-এর ভিত্তির ওপর পূর্ণাঙ্গ করতাম এবং এর দুটি দরজা রাখতাম।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
অন্য একটি বর্ণনায় তিনি বলেন:
“যখন তুমি কাবার ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ পড়তে চাইবে, তখন হিজরে (হাতিমে) নামাজ পড়ো। কারণ এটি কাবারই একটি অংশ।” (সুনানে আবু দাউদ)
সিদ্ধান্ত: হাতিমের ভেতরে নামাজ পড়া মানে সরাসরি কাবার ভেতরেই নামাজ পড়া।

ঐতিহাসিক পটভূমি
হযরত ইব্রাহিম (আ.) যখন কাবা নির্মাণ করেন, তখন হাতিম এর অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এখানেই ছিল হযরত ইসমাইল (আ.)-এর ঘর। নবুয়ত প্রাপ্তির পাঁচ বছর আগে কুরাইশরা যখন কাবা পুনর্নির্মাণ করে, তখন তাদের হালাল অর্থের অভাব দেখা দেয়। ফলে তারা কাবার মূল কাঠামোর উত্তর দিকের কিছু অংশ বাইরে রেখে দেয় এবং সম্মানের খাতিরে নিচু দেয়াল দিয়ে ঘিরে দেয়।

ইতিহাসের তিনটি পর্যায়:
- হযরত আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের (রা.) (৬৪ হিজরি): তিনি কাবাকে ইব্রাহিম (আ.)-এর মূল নকশায় হাতিমসহ পুনর্নির্মাণ করেছিলেন।
- হাজ্জাজ বিন ইউসুফ (৭৪ হিজরি): তিনি পুনরায় কাবাকে কুরাইশদের সেই অপূর্ণাঙ্গ নকশায় ফিরিয়ে নেন।
- খলিফা হারুনুর রশিদ ও ইমাম মালিক (রহি.): খলিফা পুনরায় ইব্রাহিম (আ.)-এর নকশায় কাবা গড়তে চাইলে ইমাম মালিক (রহি.) তাকে নিষেধ করেন। তিনি বলেছিলেন, “এই ঘরকে রাজাদের খেলনা বানাবেন না, এতে মানুষের অন্তর থেকে কাবার মহিমা ও গাম্ভীর্য হারিয়ে যাবে।” সেই থেকে আজ অবধি কাবা এই নকশাতেই আছে।
মেরাজ ও এক বেদনাদায়ক স্মৃতি
- মেরাজের শুরু: রাসূলুল্লাহ ﷺ হাতিমে শোয়া অবস্থায় ছিলেন, যখন জিব্রাইল (আ.) এসে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ করেন। এখান থেকেই মেরাজের ঐতিহাসিক সফর শুরু হয়েছিল। (সহিহ বুখারি)
- উতপীড়ন: এই হাতিমেই নামাজ পড়া অবস্থায় কুখ্যাত কাফের উকবা বিন আবি মুআইত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেছিল। তখন হযরত আবু বকর (রা.) এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

মিজাবে রহমত (রহমতের পরনাল)
কাবার ছাদের উত্তর দিকে একটি স্বর্ণের পরনাল রয়েছে, যার পানি সরাসরি হাতিমের মাঝখানে পড়ে। একে মিজাবে রহমত বলা হয়। বৃষ্টির সময় এই পানির নিচে দাঁড়িয়ে দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হাতিমে জিয়ারতকারীর করণীয়
- প্রবেশ করে সম্ভব হলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন।
- সিজদায় গিয়ে প্রাণখুলে দোয়া করুন, এটি দোয়া কবুলের নিশ্চিত স্থান।
- মিজাবে রহমতের নিচে দাঁড়িয়ে বা সেদিকে মুখ করে আল্লাহর কাছে চান।
- কাবার দেয়ালের খুব কাছে গিয়ে এর পবিত্রতা অনুভব করুন।
- বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
শেষ কথা
হাতিমে যখন দাঁড়াবেন, চোখ বন্ধ করে ভাবুন—এই সেই ভূমি যেখানে ইব্রাহিম (আ.) কাজ করেছেন, ইসমাইল (আ.) ও হাজেরা (আ.) বাস করেছেন। এটি কেবল পাথর বা দেয়াল নয়, এটি ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। এই মাটি কথা বলে, কেবল শোনার মতো হৃদয় থাকা প্রয়োজন।

জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ
আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট
যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991
▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।
▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক হোয়াটসএপ গ্রুপে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
সর্বশেষ আপডেটের জন্য, আপনি আমাদের ✅WhatsApp গ্রুপ বা ☑️ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগ দিতে পারেন।
