Menu
হাজরে আসওয়াদের রক্ষক 'জাবাল আবু কুবাইস': মক্কার প্রথম পাহাড়ের অজানা ইতিহাস

জাবাল আবু কুবাইস মক্কার ইতিহাস বহন করা এক প্রাচীন পর্বত

মসজিদুল হারামের পাশে অবস্থিত পবিত্র মক্কার প্রাচীন পর্বত ‘জাবাল আবু কুবাইস’-এর অজানা ইতিহাস, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মুজিযা এবং কোরআন-হাদিসের আলোকে এর গুরুত্ব জানুন।

জাবাল আবু কুবাইস: চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সাক্ষী মক্কার প্রাচীনতম পাহাড়
জাবাল আবু কুবাইস: চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সাক্ষী মক্কার প্রাচীনতম পাহাড়

পবিত্র মসজিদুল হারামের একেবারে পাশে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে জাবাল আবু কুবাইস। এটি মক্কার সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়গুলোর একটি। সময়ের পরিক্রমায় আজ পাহাড়ের অধিকাংশ অংশ আর আগের মতো নেই। এর চূড়ায় রাজকীয় প্রাসাদ নির্মাণের ফলে এখন কেবল এর অবশিষ্টাংশই চোখে পড়ে। তবুও এই পাহাড়ের নীরব স্তরগুলোতে জড়িয়ে আছে মক্কার হাজার বছরের ইতিহাস, নবীজির (ﷺ) অলৌকিক মুজিযা আর ইমানের অসংখ্য গল্প।

জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ-এর আজকের এই আয়োজনে আমরা জানবো ঐতিহাসিক এই পাহাড়ের কিছু বিস্ময়কর তথ্য।

ইসলামী ইতিহাসে জাবাল আবু কুবাইস পাহাড়ের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো এটি প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর বিখ্যাত ‘শাক্কুল কমার’ বা চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মুজিযার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সীরাত গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায়, মক্কার কুরাইশরা যখন নবীজির (ﷺ) কাছে মুজিযা দেখতে চাইলো, তখন তিনি এই পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে ইশারা করেছিলেন এবং আল্লাহর হুকুমে চাঁদ দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

কোরআনের রেফারেন্স: পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ক্বামারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “কেয়ামত সমাসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত জাদু।” (সূরা আল-ক্বামার: ১-২)

হাদিসের রেফারেন্স: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল। এক ভাগ পাহাড়ের উপরে এবং অপর ভাগ পাহাড়ের নিচে (আড়ালে) চলে গিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের বললেন, তোমরা সাক্ষী থাকো।” (সহীহ বুখারী: ৩৬৩৬, সহীহ মুসলিম: ২৮০০)

✨ ‘ফাদিহ’: কাবার দিকে মুখ করা দেয়াল

জাবাল আবু কুবাইসের যে পাশটি পবিত্র কাবার দিকমুখী ছিল, তাকে বলা হতো ‘ফাদিহ’। প্রাচীন মক্কার অধিবাসীরা পাহাড়ের এই অংশটিকে বিশেষভাবে চিনতো এবং এর আলাদা কদর করতো।

ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘আখবার মক্কা‘ (আল-আযরাকী রচিত) এবং অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে, হযরত নূহ (আ.)–এর সময়কার মহাপ্লাবনে যখন মক্কা প্লাবিত হয়েছিল, তখন পবিত্র হাজরে আসওয়াদ (কাবার কালো পাথর) এই পাহাড়েই নিরাপদে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে যখন হযরত ইবরাহীম (আ.)–কে কাবা পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে তাঁকে দেখানো হয় পাথরটি কোথায় রাখা আছে।

হাদিসের আলোকে হাজরে আসওয়াদ: হাজরে আসওয়াদ যে জান্নাত থেকে এসেছে, তা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি দুধের চেয়েও সাদা ছিল, কিন্তু বনী আদমের পাপ একে কালো করে দিয়েছে।” (সুনানে তিরমিযী: ৮৭৭)

অন্য একটি ঐতিহাসিক বর্ণনায় রয়েছে, হযরত জিবরাঈল (আ.)–ই মহাপ্লাবনের সময় পাথরটি নিরাপদ স্থানে (এই পাহাড়ে) নিয়ে যান এবং পরে ইবরাহীম (আ.)–কে তা হস্তান্তর করেন।

ইসলামী ইতিহাসের কিছু তাফসিরকারক এবং ঐতিহাসিকের মতে, এটি পৃথিবীর বুকে সৃষ্ট প্রথম পাহাড়গুলোর একটি হতে পারে। মহান আল্লাহ ﷻ এই পাহাড়টিকে বিশেষ কিছু ভূমিকার জন্য বেছে নিয়েছিলেন।

জাহেলিয়াত যুগে ‘কুবাইস’ (মতান্তরে কুবাইস ইবনে শালিখ) নামের একজন ব্যক্তি সর্বপ্রথম এই পাহাড়ে ঘর নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই এই পাহাড়টি লোকমুখে ‘জাবাল আবু কুবাইস’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

জাবাল আবু কুবাইস শুধু একটি পাহাড় নয়, এটি মক্কার বহু উত্থান-পতনের নীরব সাক্ষী:

  • হযরত আদম (আ.)-এর কবর: বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইমাম আত-তাবারী (রহ.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, হযরত আদম (আ.)–এর ইন্তেকালের পর তাঁকে এই পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়েছিল।
  • ঐতিহাসিক সংঘাত: ৬৯২ খ্রিস্টাব্দে (৭৩ হিজরি) উমাইয়া সেনাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যখন মক্কা অবরোধ করেন, তখন তিনি এই জাবাল আবু কুবাইস পাহাড়ের চূড়া থেকেই কাবার দিকে মিনজানিক (কামান সদৃশ যন্ত্র) দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাতেই প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (رضي الله عنه) শাহাদাত বরণ করেন।
  • আজানের মিনার: আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশীদের শাসনামলে মক্কার বিভিন্ন পাহাড়ে মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে পুরো উপত্যকায় আজানের ধ্বনি পৌঁছাতে পারে। জাবাল আবু কুবাইস পাহাড়ও সেই মহৎ উদ্যোগের একটি অংশ ছিল।

হজ ও ওমরাহ বিষয়ক এমন আরও ঐতিহাসিক ও তথ্যবহুল লেখা পড়তে জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ (Zilhajj Group Bangladesh) -এর সাথেই থাকুন।

জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ
জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ

আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট

যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991

▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।

▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।

আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে

ক্লিক করুন এখানে

সর্বশেষ আপডেটের জন্য, আপনি আমাদের ✅WhatsApp গ্রুপ বা ☑️ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগ দিতে পারেন।

Zilhajj Group Bangladesh

Alhamdulliha
View All Articles