নারীদের তাওয়াফ ও হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ: আবেগ বনাম শরীয়তের বিধান

طواف النساء ولمس الحجر الأسود: بين العبادة والخطأ المجهول
নারীদের তাওয়াফ ও হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ: ইবাদত এবং অজান্তে ভুলের মাঝে
হজ ও উমরাহ করতে যাওয়া প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে এক প্রবল আবেগ থাকে—হাজরে আসওয়াদকে নিজের চোখে দেখা, একটু ছুঁয়ে দেওয়া কিংবা একটি চুম্বন করা। বিশেষ করে আমাদের মা-বোনদের মধ্যে এই আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় প্রবল রূপ নেয়। কিন্তু এই পুণ্য অর্জনের প্রচেষ্টায় আমরা অজান্তেই কোনো গুনাহ করছি না তো? বিশেষ করে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পুরুষদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে হাজরে আসওয়াদের দিকে যাওয়া কি প্রকৃত ইবাদত, নাকি পদ্ধতিগত ভুল?

শরীয়তের মূলনীতি: সুন্নাহ বনাম ওয়াজিব
فقه الزحام للمرأة: هل لمس الحجر الأسود واجب على حساب الحياء؟
নারীদের ভিড়ের ফিকহ: লজ্জাশীলতার বিনিময়ে কি হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা আবশ্যক?
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন করা একটি ‘সুন্নাহ’ আমল। পক্ষান্তরে, পরপুরুষের সাথে শারীরিক ঘর্ষণ থেকে বেঁচে থাকা এবং নিজের পর্দা ও সম্ভ্রম রক্ষা করা ‘ওয়াজিব’ বা আবশ্যিক।
শরীয়তের একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি হলো— “লা দারারা ওয়া লা দিরার” (কারো ক্ষতি করা যাবে না, নিজেরও ক্ষতি করা যাবে না)। একটি সুন্নাহ পালনের জন্য ওয়াজিব ভঙ্গ করা বা নিজের ও অন্যের জান-মালের ক্ষতির কারণ হওয়া ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়।
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর আদর্শ (দলিল)
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-এর তাওয়াফের পদ্ধতি আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ গাইডলাইন। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আছে:
“আয়েশা (রাঃ) পুরুষদের থেকে আলাদা হয়ে (তাওয়াফ) করতেন, তাদের সাথে মিশতেন না।” (সহীহ বুখারী: ১৬১৮)
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, একবার এক মহিলা আয়েশা (রাঃ)-কে বললেন, “হে উম্মুল মু’মিনীন! চলুন আমরা হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করি।” তিনি বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, “তুমি যাও (আমি যাব না)”। তিনি ভিড়ের মধ্যে গিয়ে নিজের পর্দা ও গাম্ভীর্য নষ্ট করতে চাননি। (ফাতহুল বারী)
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বোনদের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন

বর্তমানে হজের সময় ভিড় কয়েক গুণ বেড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বোনদের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ তাওয়াফের কিছু টিপস:
১. ইশারা করাই যথেষ্ট: হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব না হলে ভিড় ঠেলে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে হাতে চুমু দিলেই সুন্নাহর সওয়াব পাওয়া যাবে। এটি স্বয়ং রাসূল (সা.)-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত।
২. নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা: তাওয়াফের সময় কাবা ঘরের একদম কাছে যাওয়ার চেয়ে একটু দূর দিয়ে তাওয়াফ করা বোনদের জন্য উত্তম, যাতে পুরুষদের সাথে কোনো প্রকার শারীরিক সংস্পর্শ না ঘটে।
৩. উপরের তলা ব্যবহার করা: প্রচণ্ড ভিড় থাকলে নিচতলার মাতাফে তাওয়াফ না করে প্রথম বা দ্বিতীয় তলায় তাওয়াফ করা বোনদের পর্দার জন্য অধিকতর নিরাপদ। যদিও এতে সময় একটু বেশি লাগে, কিন্তু ইবাদতের একাগ্রতা বজায় থাকে।
৪. ভিড় কম হওয়ার সময় নির্বাচন: সাধারণত মধ্যরাত বা খুব ভোরে ভিড় কিছুটা কম থাকে। সামর্থ্য থাকলে এ সময়গুলোকে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা
বোনদের মনে রাখা উচিত, আল্লাহ তায়ালা আপনার নিয়ত দেখেন। আপনি যদি পর্দা রক্ষার খাতিরে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা ত্যাগ করেন, তবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনার ত্যাগের কারণে আরও বেশি সওয়াব দান করবেন। ইবাদত হতে হবে সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতিতে, কেবল আবেগ তাড়িত হয়ে নয়।
জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ
আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট
যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991
▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।
▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক হোয়াটসএপ গ্রুপে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
সর্বশেষ আপডেটের জন্য, আপনি আমাদের ✅WhatsApp গ্রুপ বা ☑️ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগ দিতে পারেন।

