ভিজিট ভিসায় কানাডায় কাজ, স্থায়ী হওয়া এবং পরিবারকে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। ভিজিট ভিসা কেবল ভ্রমণের জন্য, যা আপনাকে কানাডায় কাজ করা, স্থায়ী হওয়া বা পরিবার আনার অনুমতি দেয় না। আপনার মূল প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো:
ভিজিট ভিসায় কাজ, স্থায়ী হওয়া বা পরিবারকে আনা সম্ভব নয়।
কেন সম্ভব নয়?
- ভিজিট ভিসার উদ্দেশ্য: ভিজিট ভিসা শুধুমাত্র কানাডায় স্বল্প সময়ের জন্য ভ্রমণ বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। এটি অস্থায়ী ভিসা।
- কাজের নিষেধাজ্ঞা: ভিজিট ভিসায় থাকাকালীন আপনি কোনো ধরনের কাজ করতে পারবেন না। যদি আপনি কাজ করতে চান, তবে আপনাকে নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।
- স্থায়ী হওয়ার সীমাবদ্ধতা: ভিজিট ভিসা থেকে সরাসরি কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা (PR) হওয়া যায় না। PR হওয়ার জন্য আপনাকে অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।
- পরিবার আনার নিয়ম: ভিজিট ভিসাধারীরা নিজেদের পরিবারকে স্পন্সর করতে পারে না। কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দারাই কেবল পরিবারকে স্পন্সর করতে পারেন।
কী করতে পারেন?
যদি আপনার উদ্দেশ্য কানাডায় কাজ করা বা স্থায়ী হওয়া হয়, তবে আপনার জন্য সঠিক অভিবাসন পথের সন্ধান করা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রোগ্রাম, যেমন এক্সপ্রেস এন্ট্রি, প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম (PNPs), বা পারিবারিক স্পন্সরশিপের মাধ্যমে আপনি স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।
এই লেখাটি কানাডায় ভিজিট ভিসায় আগতদের জন্য বসবাস, কাজ এবং পরিবার নিয়ে আসার সুযোগগুলো সম্পর্কে একটি বিশদ ধারণা দেয়। মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রাথমিক প্রশ্ন ও উত্তর
- ভিজিট ভিসায় কাজ করা: সরাসরি ভিজিট ভিসায় কানাডায় কাজ করার কোনো আইনি অনুমোদন নেই। কাজ করতে হলে এই ভিসাকে ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তর করতে হবে।
- স্থায়ীভাবে লিগ্যাল হওয়া: হ্যাঁ, দুটি প্রধান উপায়ে লিগ্যাল বা স্থায়ী হওয়া সম্ভব, তবে প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
- পরিবার নিয়ে আসা: আপনি স্থায়ী হওয়ার অনুমোদন পেলে নির্দিষ্ট সময় পর আপনার পরিবারকে কানাডায় নিয়ে আসতে পারবেন।
স্থায়ী হওয়ার দুটি প্রধান পথ
১. ওয়ার্ক পারমিট
- প্রক্রিয়া: কানাডার কোনো কোম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আপনার জন্য ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে হবে, যা একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া।
- সম্ভাবনা: সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য এটি বেশ কঠিন। লেখা অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে ভিজিট ভিসা পাওয়ার চেয়েও কানাডায় এসে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া বেশি কঠিন। তবে, যদি আপনার বিশ্বমানের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সার্টিফিকেট থাকে, তবে সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
- পরিণতি: ওয়ার্ক পারমিট পেলে আপনি বৈধভাবে কাজ করতে ও থাকতে পারবেন। ৩-৪ বছর পর স্থায়ী বাসিন্দা (Permanent Residency) হওয়ার আবেদন করা যায় এবং ৪-৫ বছরের মধ্যে পরিবারকেও নিয়ে আসা সম্ভব।
২. অ্যাসাইলাম ক্লেইম (রাজনৈতিক আশ্রয়)
এটি কানাডায় থেকে যাওয়ার তুলনামূলক সহজ কিন্তু অনিশ্চিত পথ।
- প্রক্রিয়া: কানাডায় এসে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে “দেশে ফিরে গেলে আপনার জীবনের ঝুঁকি আছে” এই যুক্তিতে অ্যাসাইলাম ক্লেইম করতে হয়।
- প্রাথমিক সুবিধা:
- ক্লেইম করার এক মাস পর ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়।
- সরকার থেকে প্রতি মাসে থাকা-খাওয়ার জন্য প্রায় ৭০০-৮০০ ডলার ওয়েলফেয়ার বা ভাতা পাওয়া যায়।
- বিচারিক প্রক্রিয়া: আপনার আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের (IRB) একজন বিচারকের অধীনে শুনানির জন্য নথিভুক্ত হবে, যা হতে ১-৩ বছর সময় লাগতে পারে।
অ্যাসাইলাম ক্লেইমের পরিসংখ্যান ও পরিণতি
লেখাটিতে গত কয়েক দশকের পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে:
- প্রথম ধাপে成功 (৩০-৪০%): প্রায় ৩০-৪০% আবেদনকারী প্রথম শুনানিতেই সফল হন এবং কানাডায় স্থায়ীভাবে থাকার অনুমোদন পান। তারা ৪-৫ বছরের মধ্যে সেটেল হয়ে যান।
- আপিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া (২০-৩০%): বাকি ৬০-৭০% আবেদনকারীকে বিভিন্ন ধাপে আপিল করতে হয়, যা শেষ হতে আরও কয়েক বছর (এমনকি ৫-১০ বছর) লেগে যায়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে আরও ২০-৩০% মানুষ স্থায়ী হওয়ার অনুমোদন পান। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে প্রায় ৬০-৭০% মানুষ ১০-১৫ বছরের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে লিগ্যাল হয়ে যান।
- ব্যর্থতা ও দেশে ফেরা (৩০-৪০%): বাকি ৩০-৪০% মানুষ সব প্রক্রিয়া শেষেও অনুমোদন পান না। তাদের উপর অনেক সময় দেশে ফেরত পাঠানোর) আদেশ জারি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের দেশেই ফিরে আসতে হয়।
ওয়ার্ক পারমিট পেতে ভিজিট ভিসার লোকজনদের কী করতে হয়?
বর্তমানে, ভিজিট ভিসাধারীদের জন্য কানাডার ভেতর থেকে সরাসরি ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করার সুযোগ
নেই। কোভিডের সময় যে অস্থায়ী নীতিটি ছিল, সেটি ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে, ভিজিট ভিসায় থাকা অবস্থায় কাজ শুরু করা বা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা এখন সম্ভব নয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী করণীয়
যদি আপনার ভিজিট ভিসা থাকে এবং আপনি কানাডায় কাজ করতে চান, তাহলে আপনাকে কানাডার বাইরে থেকে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
- বৈধ কাজের অফার (Job Offer): প্রথমে আপনাকে একজন কানাডিয়ান নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বৈধ কাজের প্রস্তাব পেতে হবে।
- এলএমআইএ (LMIA): বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, নিয়োগকর্তাকে একটি ইতিবাচক লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (LMIA) নিতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে চাকরির জন্য কোনো কানাডিয়ান বা স্থায়ী বাসিন্দা পাওয়া যায়নি।
- অনুমতি ও যোগ্যতা যাচাই: আপনাকে দেখাতে হবে যে আপনি চাকরিটির জন্য যোগ্য (শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি)।
- কানাডার বাইরে থেকে আবেদন: কাজের অফার এবং LMIA (যদি প্রয়োজন হয়) পাওয়ার পর আপনাকে কানাডার বাইরে থেকে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।
- সাধারণ যোগ্যতা পূরণ: আপনাকে অবশ্যই কানাডার ওয়ার্ক পারমিটের অন্যান্য সাধারণ শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- একটি বৈধ পাসপোর্ট।
- অর্থনৈতিকভাবে নিজের যত্ন নেওয়ার মতো যথেষ্ট অর্থ।
- কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা।
- যদি প্রয়োজন হয়, মেডিকেল পরীক্ষা করা।
বিশেষ ব্যতিক্রম
কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে কানাডায় থাকা অবস্থায়ও ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যায়, তবে তা ভিজিট ভিসাধারীদের জন্য খুবই সীমিত:
- যদি আপনি কোনো আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামের অধীনে আসেন, যেমন ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স কানাডা (IEC), এবং কানাডার ভেতর থেকে আবেদন করার যোগ্য হন।
- যদি আপনি অন্য কোনো ওয়ার্ক পারমিট বা স্টাডি পারমিটের যোগ্য হন, যেমন কানাডার একজন ছাত্রের জীবনসঙ্গী হিসেবে ওপেন ওয়ার্ক পারমিট।
আপনার পরিস্থিতি যদি উপরের বিশেষ ব্যতিক্রমগুলোর মধ্যে না পড়ে, তাহলে ভিজিট ভিসা নিয়ে কানাডায় আসার পর ওয়ার্ক পারমিট পেতে আপনাকে কানাডার বাইরে গিয়ে আবেদন করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় একজন অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া।
কানাডায় ভিজিট ভিসা: বাংলাদেশীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
কানাডা ভ্রমণ, বন্ধু বা পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ অথবা ব্যবসায়িক কাজে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশীদের মধ্যে ভিজিট ভিসার চাহিদা বাড়ছে। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উন্নত জীবনযাত্রা এবং বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ কানাডায় ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। এই নির্দেশিকাটি কানাডার ভিজিট ভিসা সম্পর্কিত সকল তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে।
ভিসার প্রকারভেদ
কানাডার ভিজিট ভিসা মূলত টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা (TRV) হিসেবে পরিচিত। এর দুটি প্রধান প্রকারভেদ রয়েছে:
- সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা: এই ভিসার মাধ্যমে ভিসার মেয়াদের মধ্যে একবার কানাডায় প্রবেশ করা যায়।
- মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা: এই ভিসার মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ থাকা পর্যন্ত একাধিকবার কানাডায় প্রবেশ করা যায়। সাধারণত, মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা ১০ বছর পর্যন্ত বা পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং প্রতিবার কানাডায় প্রবেশের পর সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত অবস্থান করা যায়। বর্তমানে বেশিরভাগ আবেদনকারীকেই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হয়।
আবেদনের যোগ্যতা
কানাডার ভিজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে কিছু মৌলিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) মূলত নিশ্চিত হতে চায় যে, আবেদনকারী কানাডায় ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফেরত আসবেন। বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো:
- ভ্রমণের উদ্দেশ্য: কানাডায় ভ্রমণের একটি সুনির্দিষ্ট এবং আইনসম্মত কারণ থাকতে হবে (যেমন: পর্যটন, পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ, ব্যবসায়িক মিটিং)।
- আর্থিক স্বচ্ছলতা: কানাডায় অবস্থানকালীন সময়ে নিজের এবং সাথে থাকা পরিবারের সদস্যদের খরচ বহন করার জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দেখাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে থাকা, খাওয়া, ভ্রমণ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য খরচ।
- নিজ দেশে ফেরার বাধ্যবাধকতা: আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তার নিজ দেশের সাথে শক্তিশালী পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে যা তাকে ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরতে উৎসাহিত করবে। এর মধ্যে চাকরি, ব্যবসা, পারিবারিক সম্পত্তি, বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- বৈধ ভ্রমণ নথি: একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
- সুস্বাস্থ্য: কিছু ক্ষেত্রে মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
- অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে عدم সম্পৃক্ততা: আবেদনকারীর কোনো গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না।
- ইমিগ্রেশন আইন মেনে চলা: পূর্বে কানাডা বা অন্য কোনো দেশের ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গ করার রেকর্ড থাকা যাবে না।
আবেদন প্রক্রিয়া
কানাডার ভিজিট ভিসার জন্য অনলাইন বা কাগজের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। তবে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং সুবিধাজনক।
অনলাইন আবেদন:
১. অ্যাকাউন্ট তৈরি: প্রথমে IRCC-এর ওয়েবসাইটে একটি নিরাপদ অ্যাকাউন্ট (GCKey বা Sign-In Partner) তৈরি করতে হবে। ২. যোগ্যতা যাচাই: অ্যাকাউন্টে লগইন করে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ভিসার জন্য যোগ্যতা যাচাই করে নিতে হবে। ৩. আবেদনপত্র পূরণ: যোগ্যতা থাকলে একটি পার্সোনাল চেকলিস্ট কোড দেওয়া হবে, যা দিয়ে অনলাইন আবেদনপত্র (IMM 5257) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করতে হবে। ৪. ডকুমেন্ট আপলোড: চেকলিস্ট অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। ৫. ফি প্রদান: ভিসা আবেদন ফি এবং বায়োমেট্রিক ফি অনলাইনে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। ৬. বায়োমেট্রিক নির্দেশনা: ফি প্রদানের পর একটি বায়োমেট্রিক ইন্সট্রাকশন লেটার (BIL) আসবে। ৭. বায়োমেট্রিক প্রদান: BIL পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিকটস্থ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (VAC) গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ছবি (বায়োমেট্রিক) জমা দিতে হবে।
কাগজের মাধ্যমে আবেদন:
১. আবেদনপত্র ডাউনলোড: IRCC ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র (Application package) ডাউনলোড করতে হবে। ২. ফর্ম পূরণ: ফর্মটি পূরণ করে প্রিন্ট করতে হবে। ৩. ফি প্রদান: নির্ধারিত ব্যাংকে ভিসা এবং বায়োমেট্রিক ফি জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। ৪. ডকুমেন্টসহ আবেদন জমা: পূরণকৃত আবেদনপত্র, ফি জমার রশিদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিকটস্থ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (VAC) আবেদন জমা দিতে হবে। সেখানে বায়োমেট্রিকও সম্পন্ন করা হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সঠিক এবং নির্ভুলভাবে সকল ডকুমেন্ট জমা দেওয়া ভিসা পাওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। সাধারণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- পূরণকৃত আবেদনপত্র:
- ভিজিটর ভিসার আবেদনপত্র (IMM 5257)
- পারিবারিক তথ্য ফর্ম (IMM 5707 বা IMM 5645)
- বৈধ পাসপোর্ট: পাসপোর্টের মেয়াদ কানাডায় предполагаিত অবস্থানের সময়কালের পরেও থাকতে হবে এবং অন্তত একটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পূর্ববর্তী সকল পাসপোর্টের কপিও জমা দিতে হবে।
- ছবি: নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী (৩৫মিমি x ৪৫মিমি) সদ্য তোলা দুই কপি ছবি। ছবির পেছনে নাম ও জন্মতারিখ লেখা থাকতে হবে।
- আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ:
- বিগত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
- ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
- চাকরির বেতনের প্রমাণপত্র (Salary Certificate/Pay Slips)।
- ট্যাক্স রিটার্নের কপি।
- সম্পত্তির দলিলের কপি (যদি থাকে)।
- ভ্রমণের উদ্দেশ্যের প্রমাণ:
- বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা (Day-to-day itinerary)।
- ফ্লাইট রিজার্ভেশনের কপি (টিকেট কেনার প্রয়োজন নেই)।
- হোটেল বুকিংয়ের কপি।
- কানাডায় বসবাসকারী কারো কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র (যদি থাকে)। আমন্ত্রণকারীর কানাডার স্ট্যাটাসের প্রমাণ (যেমন: পাসপোর্ট, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড) এবং আর্থিক অবস্থার প্রমাণ সংযুক্ত করতে হবে।
- পেশাগত প্রমাণপত্র:
- চাকরিজীবীদের জন্য: চাকরির নিয়োগপত্র, ছুটির অনুমোদনপত্র, এবং প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র (No Objection Certificate – NOC)।
- ব্যবসায়ীদের জন্য: ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, এবং অন্যান্য ব্যবসায়িকเอกสาร।
- ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ছুটির অনুমোদনপত্র।
- নিজ দেশে ফেরার প্রমাণের জন্য সহায়ক নথি:
- সম্পত্তির মালিকানার প্রমাণ।
- পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ (যেমন: ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট)।
ভিসা আবেদন ফি ও প্রসেসিং সময়
- ভিসা আবেদন ফি: জনপ্রতি ১০০ কানাডিয়ান ডলার।
- বায়োমেট্রিক ফি: জনপ্রতি ৮৫ কানাডিয়ান ডলার। একটি পরিবারের (২ বা ততোধিক সদস্য) জন্য একত্রে আবেদন করলে সর্বোচ্চ ১৭০ কানাডিয়ান ডলার।
প্রসেসিং সময়:
ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন: আবেদনের ধরন, আবেদনের সংখ্যা, এবং আবেদনটি সম্পূর্ণ ও নির্ভুল কিনা। বাংলাদেশ থেকে ভিজিটর ভিসা আবেদনের সর্বশেষ প্রসেসিং সময় জানতে IRCC-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ টুল রয়েছে। আবেদনকারীদের নিয়মিত এই ওয়েবসাইটটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (VAC)
বাংলাদেশে কানাডার ভিসা আবেদনগুলো VFS Global দ্বারা পরিচালিত হয়। এখানে বায়োমেট্রিক প্রদান, আবেদন জমা দেওয়া, এবং পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার মতো পরিষেবাগুলো পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতে এর শাখা রয়েছে:
- ঢাকা: ডেল্টা লাইফ টাওয়ার, ৪র্থ তলা, প্লট # ৩৭, রোড # ৯০, গুলশান নর্থ এভিনিউ, গুলশান ২, ঢাকা-১২১২।
- সিলেট: নির্ভানা ইন, মির্জা জঙ্গল রোড, রামের দিঘির পাড়, সিলেট-৩১০০।
- চট্টগ্রাম: ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ৫ম তলা, ১০২-১০৩ আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এরিয়া, চট্টগ্রাম-৪১০০।
এই কেন্দ্রগুলো সাধারণত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি কানাডার ভিজিট ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই আবেদন করার পূর্বে সকল তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সারকথা
ভিজিট ভিসায় কানাডায় এসে স্থায়ী হওয়ার পথটি মোটেও সহজ নয়। প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন দ্রুত লিগ্যাল হওয়ার সুযোগ পান, দ্বিতীয়জন অনেক বছর চেষ্টার পর সফল হন, আর তৃতীয়জন কখনোই লিগ্যাল হতে পারেন না এবং তাদের দেশে ফিরে আসতে হয়।
Can You Work or Settle in Canada on a Visitor Visa?
Many people repeatedly ask through Messenger:
👉 Can I work in Canada on a visitor visa?
👉 Can I become a permanent resident legally after entering Canada on a visitor visa?
👉 Can I bring my family to Canada?
👉 How long will this process take?
This article is especially important for anyone interested in coming to Canada on a visit visa, because it provides a realistic picture of what happens after you arrive.
General Rule for Visitor Visa Holders
In any country—whether in Europe, America, or Australia—a visitor visa does not allow you to work legally. However, all of these countries provide the opportunity to make an asylum claim if you fear persecution back home. But not everyone who applies is automatically granted settlement.
What Happens After Entering Canada on a Visitor Visa?
- Visitor Status Only
You enter as a tourist. You are not allowed to work. If you want to stay long-term, you have two options: A. Converting Visitor Visa to Work Permit- To do this, you need a Canadian company or business to sponsor you.
- If approved, you will get both work authorization and legal stay.
- After 3–4 years, you may become eligible for Permanent Residency (PR), and within 4–5 years, you can bring your family.
- However, securing a work permit is extremely difficult for ordinary Bangladeshi applicants. In fact, it is harder than getting the visitor visa itself. Only highly skilled professionals with recognized certificates and experience have a realistic chance.
- After entering Canada, you can hire a lawyer and claim asylum, stating that returning to your home country would endanger your life.
- Within one month, you can apply for a work permit, which allows you to start working legally.
- The Canadian government also provides basic welfare support (~700–800 CAD per month) during this period.
- But asylum does not guarantee permanent status. Your case must go before a judge at the Immigration & Refugee Board (IRB).
Success Rate & Timeline of Asylum Claims
- 30–40% of applicants win their case at the first hearing and become fully legal residents. They later apply for PR and receive their cards within 2–4 years.
- 60–70% of applicants go through multiple appeals. These cases can take 5–10 years. Many eventually get accepted through appeals or Humanitarian & Compassionate grounds.
- 30–40% of applicants ultimately get rejected and face deportation orders. Some leave Canada voluntarily; others remain illegally.
Final Analysis
- About 1 in 3 visitors become legal within 3–4 years.
- Another portion (20–30%) legalize themselves after 8–10 years.
- The rest may never become legal, even after decades, unless the Canadian government declares a general amnesty.
In summary:
Coming to Canada on a visit visa does not guarantee work or settlement. Some people do manage to legalize their status over time, while others remain illegal indefinitely. It’s a path full of uncertainty, patience, and legal battles.
জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ
আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট
যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991
▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।
▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক হোয়াটসএপ গ্রুপে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
সর্বশেষ আপডেটের জন্য, আপনি আমাদের ✅WhatsApp গ্রুপ বা ☑️ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগ দিতে পারেন।

