ওষুধ খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রেখে হজ বা ওমরাহ পালন: শরয়ি বিধান ও পরামর্শ
হজ ও ওমরাহ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি মুমিনের আজীবনের লালিত স্বপ্ন। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক দুশ্চিন্তার বিষয় হলো সফরকালীন ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড। অনেক মা-বোন প্রশ্ন করেন, ওষুধের মাধ্যমে পিরিয়ড বন্ধ রেখে হজ বা ওমরাহ পালন করা যাবে কি না?
একজন মোয়াল্লেম ও আলেম হিসেবে এই বিষয়ে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ঋতুস্রাব বা হায়েজ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। স্বাভাবিক অবস্থায় একে ওষুধের মাধ্যমে বাধা দেওয়া অনুচিত, কারণ এতে শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। ইসলামে সুস্বাস্থ্যের হেফাজত করা একটি জরুরি ইবাদত।
পিরিয়ড একটি প্রাকৃতিক রহমত
ঋতুস্রাব বা হায়েজ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। স্বাভাবিক অবস্থায় একে ওষুধের মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়া অনুচিত, কারণ এতে শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। ইসলাম সর্বদা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়।
ওষুধ ব্যবহারের শরয়ি হুকুম
ওষুধের মাধ্যমে পিরিয়ড বন্ধ রাখার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত হলো:
১. যদি স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়: ডাক্তার যদি মনে করেন ওষুধ ব্যবহারে আপনার বড় কোনো শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা আছে, তবে এমন ওষুধ ব্যবহার করা জায়েজ হবে না। ইসলামে নিজের জীবন বা স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলা নিষিদ্ধ।
২. যদি স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়: যদি অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা নিরাপদ হয় এবং এর ফলে রক্তপাত বন্ধ থাকে, তবে শরয়ি দৃষ্টিতে আপনি ‘পবিত্র’ হিসেবে গণ্য হবেন। এই অবস্থায় আপনার ওমরাহ, তওয়াফ এবং হজের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা সম্পূর্ণ সহীহ হবে।
সফরকালীন কিছু জরুরি দিকনির্দেশনা
একজন মোয়াল্লেম হিসেবে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় আমি কিছু পরামর্শ দিচ্ছি:
- মানসিক প্রস্তুতি: ইহরামের আগে বা সফরে পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আপনি মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধবেন এবং তালবিয়া পাঠ করবেন। শুধু তওয়াফ ও নামাজ ছাড়া হজের বাকি সব কাজ (যেমন: সাফা-মারওয়া সাঈ, আরাফাত ও মুজদালিফায় অবস্থান) আপনি করতে পারবেন।
- তওয়াফ বিলম্ব করা: পিরিয়ড অবস্থায় তওয়াফ করা নিষেধ। পবিত্র হওয়ার পর আপনি ওমরাহর তওয়াফ বা হজের তওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন।
- বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি: যদি হাতে সময় খুব কম থাকে এবং ওষুধ ব্যবহার ছাড়া কোনো উপায় না থাকে, তবে একজন ভালো নারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আপনি ওষুধ সেবন করতে পারেন। ওষুধ সেবনের ফলে রক্ত আসা বন্ধ থাকলে আপনার ইবাদত কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।
ফিকহি রেফারেন্স
ইসলামি আইনশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু’ এবং ‘আল-মউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ’-তে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোনো নারী ওষুধ সেবনের মাধ্যমে যদি তার পিরিয়ড সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে, তবে সে পবিত্র বলেই গণ্য হবে এবং তার ইবাদত সঠিক হবে।
(সূত্র: ফাতাওয়া নং ১৪৪৫০৭১০০৪৭০, জামিয়া উলুম ইসলামিয়া আল্লামা বিনোরী টাউন)
মোয়াল্লেমের বিশেষ পরামর্শ সফরকালীন জটিলতা এড়াতে মা-বোনদের জন্য কিছু জরুরি টিপস:
- মানসিক দৃঢ়তা: পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলেও ঘাবড়াবেন না। মীকাত থেকে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করতে থাকুন। শুধু নামাজ ও তওয়াফ বাদে হজের অন্য সব কাজ (সাফা-মারওয়া সাঈ, মিনায় অবস্থান, আরাফাত ও মুজদালিফার দোয়া) আপনি স্বাভাবিকভাবেই করতে পারবেন।
- ডাক্তারি পরামর্শ: যারা ওষুধ নিতে চান, তারা সফরের অন্তত ১-২ মাস আগে থেকেই একজন নারী গাইনোকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করুন, যাতে ওষুধের ডোজ আপনার শরীরের সাথে মানিয়ে যায়।
- তওয়াফ বিলম্ব করা: আপনি যদি মক্কায় অবস্থান করেন এবং সময় হাতে থাকে, তবে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তওয়াফে জিয়ারত বা ওমরাহ সম্পন্ন করাই উত্তম।
শেষ কথা
হজ বা ওমরাহর সফরে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শারীরিক অবস্থা ও শরয়ি বিধান—উভয়টির সমন্বয় করা জরুরি। আল্লাহ তাআলা সকল মা-বোনদের হজ ও ওমরাহ কবুল করুন। আমিন।
পরামর্শ: আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
“لا يجوز للمرأة أن تمنع حيضها، أو تستعجل إنزاله إذا كان ذلك يضر صحتها، لأن المحافظة على الصحة واجبة.”
(الفقہ علی المذاھب، الأربعۃ كتاب الطهارة، مباحث الحيض، تعريف الحيض، ج:1، ص:101، ط:دارالحديث – القاهرة)
“إذا حاضت المرأة أو نفست عند الإحرام اغتسلت للإحرام وأحرمت وصنعت كما يصنعه الحاج، غير أنها لا تطوف بالبيت حتى تطهر، وإذا حاضت المرأة أو نفست فلا غسل عليها بعد الإحرام، وإنما يلزمها أن تشد الحفاظ الذي تضعه كل أنثى على محل الدم، لمنع تسربه للخارج. ثم تفعل سائر مناسك الحج إلا الطواف بالبيت؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر عائشة رضي الله عنها أن تصنع ما يصنع الحاج غير الطواف بالبيت . وقال في حديث صحيح لأسماء بنت عميس: «اصنعي ما يصنع الحاج غير ألا تطوفي بالبيت».وعلى هذا فلا تلزم بطواف القدوم ولا بقضائه؛ لأنه سنة عند الجمهور.”
(الفقہ الاسلامی وادلتہ، الباب الخامس: الحج والعمرة، الفصل الأول: أحكام الحج والعمرة، المبحث الخامس - أركان الحج والعمرة، المطلب الثاني ـ الطواف، حج المرأة الحائض، ج:3، ص:2220،2223، ط:دارالفكر)
“ثم إن المرأة متى شربت دواء وارتفع حيضها فإنه يحكم لها بالطهارة.”
(الموسوعۃ الفقہیہ الکویتیہ، الحيض، أحكام عامة، إنزال ورفع الحيض بالدواء، ج:18، ص:326، ط:وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية – الكويت)
دارالافتاء : جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن، فتویٰ نمبر : 144507100470
والله اعلم بالصواب

জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ
আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট
যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991
▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।
▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক হোয়াটসএপ গ্রুপে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে
সর্বশেষ আপডেটের জন্য, আপনি আমাদের ✅WhatsApp গ্রুপ বা ☑️ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগ দিতে পারেন।

