Menu
এই রমাদান হোক আপনাদের বদলে যাওয়ার প্রথম রমাদান। যেন পরের বছর রমাদানের এমনি কোনো পবিত্র রাতে আল্লাহর কাছে সিজদাহতে লুটিয়ে শুকরিয়ার অশ্রু বইয়ে দিতে পারেন আর বলতে পারেন, ‘ইয়া আল্লাহ্‌! আপনিই আমাকে গত বছর হিদায়াতের সন্ধান দিয়েছিলেন! আমাকে মুক্ত করেছেন চোরাবালি থেকে…’

রমজানে কিভাবে নিজেকে বদলাবেন এবং সুফলতা কি

আসসালামু আলাইকুম। রমাদান মুবারাক। এই রমজানে হোক আপনাদের বদলে যাওয়ার প্রথম রমাদান। যেন পরের বছর রমাদানের এমনি কোনো পবিত্র রাতে আল্লাহর কাছে সিজদাহতে লুটিয়ে শুকরিয়ার অশ্রু বইয়ে দিতে পারেন আর বলতে পারেন, ‘ইয়া আল্লাহ্‌! আপনিই আমাকে গত বছর হিদায়াতের সন্ধান দিয়েছিলেন! আমাকে মুক্ত করেছেন চোরাবালি থেকে…’।

এমন পরিবর্তন আসা সম্ভব, সত্যিই সম্ভব।হয়তো ভাবছেন মিথ্যা সান্ত্বনা দিচ্ছি। রোজা তো রাখি ঠিকই, কই লাভ তো হয় না!

ভাইরে, রোজা রাখার পাশাপাশি যে সমান তালে চলে মিউজিক/ মুভি/ সিরিজ এটা বলছেন না কেনো? ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম স্ন্যাপচ্যাট টিকটক আরো কত সোশ্যাল (!) সাইটে যে নিজের স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে নষ্টামির দুয়ার খুলে রেখেছেন সেটাই বা বাদ যাবে কেনো? জাস্ট-ফ্রেন্ড, গার্ল-ফ্রেন্ডদের কথা আর নাই বা তুলি! এসব দিব্যি চালিয়ে ভাবছেন পর্ন-মাস্টারবেশনের ফাঁদ থেকে বেঁচে যাবেন?
যে ভাইয়েরা এটা ভেবে নিয়েছেন যে, স্রেফ উপোস থেকে স্ক্রিনে ললনাদের গিলে দিন পার করে দিবেন আর সামহাউ কোন একটা ‘মিরাকল’ ঘটে উনার পর্ন-মাস্টারবেশন আসক্তি মিটে যাবে, মেয়েদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে!, তাদের থেকে চোখ নিচু হয়ে যাবে আর হিদায়াতের পথ তার সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাবে!
– আপনারা বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। স্রেফ না খেয়ে থাকলেই আপনি হিদায়াতের সন্ধান পাবেন না। এটা সাওম না, এভাবে রমাদান পার করলে আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ
কেউ যদি সওম পালন করেও মিথ্যা বলা ও অপকর্ম ত্যাগ না করে, তাহলে তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। 1

বরং এই উদাসীনতা, আল্লাহর হুকুম আহকামকে পাত্তা না দিয়ে গুনাহে নিমজ্জিত থাকা ডেকে আনে আজাব। এমন আজাবে কষ্ট পায় আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি।

আল্লাহ্‌ বলেন,
“…নিশ্চিত জেনো, আল্লাহ্ কোনও জাতির অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতক্ষন না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে…”
(আর-রা’দ, আয়াত ১১)

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ তাকী উসমানী এই আয়াতের ব্যাখায় বলেন, এমনিতে আল্লাহ্ কোন জাতির ভালো অবস্থাকে মন্দ করে দেন না। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর নাফরমানীতে অটল থাকে আর নিজেদের আমল-আখলাক সেরূপে বদলে ফেলে তখন তাদের উপর আল্লাহর আজাব এসে যায়। [2, তাফসীরে তাওযীহুল কোরআন, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৩১]

একই প্রসঙ্গে হাদীসেও এসেছে যে, যখন পাপাচার অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে, কেউই আজাব থেকে রক্ষা পাবে না, মুমিনরাও না।

তাহলে করণীয় কী? দেখেন ভাই, দুনিয়াবী জগতের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে যেমন মেহনত দিতে হয়, তেমনি ‘রুহানী’ জগতের ক্ষেত্রেও একই মেকানিজম। আগে আপনি উদ্যোগ নিবেন, এরপর আল্লাহ্ আপনাকে টেনে বের করবেন মুছিবত থেকে।

হাদিসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ্ বলেছেন, ‘আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি খুশী হন, যে তার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পায়। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।” ক্লিক করুন

কিছু বুঝাতে পারলাম কি?
আগে আপনি আল্লাহর নিকট এগুবেন- আগে আপনি হারাম থেকে বের হবার সমাধান খুঁজতে আরম্ভ করবেন, আগে আপনি অন্তরকে বোঝাবেন, প্রবৃত্তিকে লাগাম পড়াবেন। এরপর, আপনার মেহনত, নিয়্যাহ এর বদৌলতে আল্লাহ্‌ আপনাকে বাঁচাবেন।
যদি বুঝে থাকেন, যদি আপনি আল্লাহর নাখোশ বান্দাদের দলভুক্ত হতে না চান, যদি প্রস্তুত থাকেন ময়লায় আচ্ছাদিত অন্তরকে ধুয়ে সাফ করতে, তাহলে এবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন রমাদানের উদ্দেশ্য-বিধায়।
‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’
(আল-বাকারা, আয়াত ১৮৩)

আল্লাহ্ সুবহানওয়াতা’আলা রমাদানকে ফরজ করেছেন।

যেন আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। . আপনি চাইলেই তো লুকিয়ে কিছু খেয়ে নিতে পারেন, তাই না? তাও সংযম করছেন। কেন?
কারণ আপনি জানেন, কেউ না দেখলেও আমাদের রব ঠিকই দেখছেন। উনার ভয়ে আপনার লোভাতুর চোখ ইফতারের প্রহর গুনছে। ওজু করার সময় খুব খেয়াল রাখছেন যেন পানি পেটে না ঢুকে পড়ে!
আল্লাহর ভয় এবং উনার ভয়ে ‘ভুল-ত্রুটি থেকে সচেতন থাকা’ এটাই হচ্ছে তাকওয়া।
শাইখ মূসা জিবরীল উনার Gems of Ramadan লেকচারে সুন্দর বলেছেন, রমাদান হচ্ছে বুট ক্যাম্প এর মতো। এখানে আপনি ‘হালাল’ খাবার থেকে, স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরংগতা থেকে নিজেকে বিরত রাখছেন, আল্লাহর আদেশে। এই ট্রেইনিং থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনাকে আগামী ১১ মাস অবশ্যই ‘হারাম’ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে।
আল্লাহ্‌র রসূল (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া বিবাদ না করে। যদি কেউ তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। এখানে
আপনার অন্তরে যত ভালোভাবে তাকওয়া সিলমোহর বসবে, আপনি তত সচেতন থাকবেন।

নিশ্চয়ই সালাত বিরত রাখে আল-ফাহশা (সব ধরনের কবীরা গুনাহ, অশ্লীলতা) এবং আল-মুনকার (কুফর, শির্ক ও অন্যান্য শয়তানী কাজ) থেকে।’
(আল-আনকাবুত, আয়াত ৪৫)


মাথায় আসে না অনেকের।সালাতে সূরা ফাতিহা তো পড়া লাগেই, তাই না? ফাতিহার ৫ নম্বর আয়াতের অর্থটা দেখুন, আমরা এখানে সাক্ষ্য দিচ্ছি إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ – ‘আমরা আপনারই ইবাদত করি, আপনার কাছেই সাহায্য চাই’। এভাবে আমরা জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর অনুগত হয়ে চলার ওয়াদা করছি! এখন কীভাবে এ ওয়াদা ভঙ্গ করা সম্ভব? যখনই কোন গুনাহ করতে ইচ্ছা হবে এই ওয়াদার কথা মাথায় রাখুন। এভাবেই আপনি রক্ষা পাবেন ফাহেশাত থেকে। [তাফসীরে তাওযীহুল কোরআন, ২য় খন্ড, পৃঃ ৫৭৫ এর ভাবার্থ]


রমাদানে সালাতের বিশেষত্ব কী?

এই পবিত্র মাসে আমরা শুধু ৫ ওয়াক্ত ফরজ, সুন্নাতে মুয়াকাদ্দাহ সালাতগুলো পড়ি তা না, এর পাশাপাশি আমরা তারাবীহ পড়ি, তাহাজ্জুতও পড়ি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি। কিয়ামুল লাইলের খাতায় শুধু ২০ রাকাত তারাবীহ যোগ করলে, এই মাসেই প্রতিদিন অন্তত ৫২ রাকাত সালাতে আপনি ৫২ বার সূরা ফাতিহা পড়ছেন বা শুনছেন (ইমামের ইক্তিদা করে)।

-এভাবে আল্লাহর দিকেই বারবার রুজু করছেন, আল্লাহর সাথে ওয়াদা করছেন যে, একমাত্র উনার কথামতোই আপনি চলছেন, চলবেন। এই আল্লাহর ভয়, উনার ক্ষমা পাওয়ার জন্য করা আপনার সব ইবাদত, উনারই কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ।
আপনাকে হিদায়াতের পথ দেখাবে, বিইযনিল্লাহ। . অনেক কিছু বলে ফেললাম ভাই। মাঝে মাঝে বলতে ইচ্ছা করে। আমরাও আপনাদের মতোই ইনসান। এক গুনাহগার বান্দা। আল্লাহ্কে নাখোশ করে ফেলি শয়তানের ধোঁকায়। আসেন মিলেমিশে নসীহতের মাধ্যমে দুনিয়ার জিন্দেগিটা পার করি… ঈমান নিয়ে। . এ পর্ব শেষ করছি দুটো হাদিস মনে করিয়ে দিয়েঃ

  • নবীজি (ﷺ) বলেছেন: ‘‘যখন রমাযান মাসের প্রথম রাত হয়, শয়তান ও অবাধ্য জীনদেরকে বন্দী করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহকে বন্ধ করে দেয়া হয়। এর একটিও খোলা রাখা হয় না। এদিকে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। একটিও বন্ধ রাখা হয় না। আহবানকারী (মালাক বা ফেরেশতা) ঘোষণা দেন, হে কল্যাণ অনুসন্ধানকারী! আল্লাহর কাজে এগিয়ে যাও। হে অকল্যাণ ও মন্দ অনুসন্ধানী! (অকল্যাণ কাজ হতে) থেমে যাও। এ মাসে আল্লাহ তা‘আলাই মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন এবং এটা (রমাযান (রমজান) মাসের) প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে।’’ [7 ] . – জিব্রীল (আ.) দুআ করেছেন, “ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমযান মাস পেল, তবুও তার গুনাহ মাফ হল না।” উত্তরে নবীজি (ﷺ) বললেন, ‘আমীন’। [8 ] . ‘ধ্বংস’, নয়তো ‘মুক্তি’…

এই রমাদান শেষে আমাদের পরিণতি হবে এই দুইটার যেকোনো একটা। মাথায় গেঁথে নিন ভালো করে। খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা থাকবে কিভাবে আপনি এই অসাধারণ দিনগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টিতে ব্যয় করতে পারেন ইনশাআল্লাহ।

আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট

যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991

▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।

▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।

আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মিত এই রকম আরো মাসলা মাসায়েল জানতে

ক্লিক করুন এখানে

হোয়াটস এপে জয়েন করতে ক্লিক করুন

Zilhajj Group Bangladesh

Alhamdulliha
View All Articles