প্রশ্ন
এক নারী হজ্জের সফরে মীক্বাতে অপবিত্র অবস্থায় ইহরাম বাঁধেন। পবিত্র হওয়ার পর ওমরার কাজ শেষ করেন, কিন্তু তওয়াফে ইফাযার সময় পুনরায় তার রক্ত দেখা দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি গোপন রেখে তিনি হজ্জের বাকি কাজ শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। এখন তার হজ্জের হুকুম কী?
সমাধান ও হুকুম
তওয়াফে ইফাযার সময় নির্গত রক্তের প্রকৃতি অনুযায়ী এর সমাধান দুটি হতে পারে:
১. যদি রক্তটি ঋতুর (হায়েয) হয়:
রক্তের বৈশিষ্ট্য বা ব্যথা দেখে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় এটি হায়েয, তবে তার ওই তওয়াফ শুদ্ধ হয়নি।
করণীয়: তাকে পুনরায় মক্কায় যেতে হবে। মীক্বাত থেকে ওমরার ইহরাম বেঁধে ওমরা শেষ করার পর পুনরায় ‘তওয়াফে ইফাযা’ সম্পন্ন করতে হবে।
২. যদি রক্তটি অন্য কোনো কারণে হয়:
ভিড়ের প্রচণ্ডতা বা ভীতির কারণে রক্ত বের হলে এবং তা ঋতুর রক্ত না হলে, তার তওয়াফ শুদ্ধ হয়ে যাবে (নির্দিষ্ট কিছু মতানুসারে)।
৩. যদি পুনরায় মক্কায় ফিরে আসা অসম্ভব হয়:
দূরত্ব বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে যদি পুনরায় মক্কায় ফিরে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে তার হজ্জ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান আল্লাহ চাপিয়ে দেন না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কাবা ঘর তওয়াফের জন্য বড় অপবিত্রতা (গোসল ফরজ হওয়া অবস্থা) থেকে পবিত্র থাকা বাধ্যতামূলক। ছোট অপবিত্রতা (অযু না থাকা) অবস্থায় তওয়াফ নিয়ে মতভেদ থাকলেও বড় অপবিত্র অবস্থায় তওয়াফ না করার বিষয়ে সকল ফকীহ একমত।

