হজ বা ওমরা পালনের সময় মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হলে মহিলাদের করণীয় কী? ইহরাম, তাওয়াফ ও সাঈ সংক্রান্ত জরুরি ১০টি মাসআলা ও সমাধান জেনে নিন আমাদের এই গাইড থেকে।

পবিত্র হজ ও ওমরা পালনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সবার মনেই অনেক প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে মা ও বোনদের কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় যেমন ঋতুস্রাব বা প্রসূতি অবস্থায় ইবাদতের নিয়মকানুন নিয়ে কিছুটা দ্বিধা কাজ করা স্বাভাবিক। আপনাদের পবিত্র সফর যেন সম্পূর্ণ শরীয়াহ সম্মত এবং চিন্তামুক্ত হয় সেই লক্ষ্যে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলা একত্রিত করেছি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১০টি জরুরি প্রশ্নের উত্তর।
১. মক্কায় পৌঁছার পর ঋতুস্রাব শুরু হলে এবং মাহরাম চলে গেলে করণীয় কী?
প্রশ্ন: ওমরার জন্য ইহরামরত এক মহিলা মক্কায় গমন করল এবং মক্কায় পৌঁছার পর সে ঋতুগ্রস্ত হলো। এদিকে তার মাহরাম পুরুষ (যার সাথে স্থায়ীভাবে বিয়ে বৈধ নয়) তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হলো এবং মক্কায় তার আর কেউ রইল না। তাহলে উক্ত মহিলার হুকুম কি?
উত্তর: যদি সে সউদী আরবের হয়, তাহলে সে তার মাহ্রাম পুরুষের সাথে চলে যেয়ে ইহ্রাম অবস্থায় থাকবে। অতঃপর পবিত্র হলে আবার মক্কায় ফিরে আসবে। কেননা তার জন্য ফিরে আসা সহজ এবং তার তেমন কোন পরিশ্রমও হবে না আবার পাসপোর্টেরও প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি সে ভিনদেশী হয় এবং আবার ফিরে আসা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তাহলে সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে পট্টি বেঁধে তওয়াফ ও সাঈ করে নিবে। অতঃপর ঐ একই সফরে চুল ছেঁটে ওমরার কাজ শেষ করবে। কেননা ঐ অবস্থায় তার তওয়াফ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আর আবশ্যকতা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে।
২. হজের দিনগুলোতে ঋতুগ্রস্ত হলে হজের বিধান কী?
প্রশ্ন: হজের দিনগুলোতে কোন মুসলিম মহিলা ঋতুগ্রস্ত হলে তার বিধান কি? তার ঐ হজ কি তার জন্য যথেষ্ট হবে?
উত্তর: ঋতুগ্রস্ত হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ না জানা পর্যন্ত এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা হজের কিছু কিছু কাজে ঋতুস্রাব প্রতিবন্ধক হয় না আবার কিছু কিছুতে তা প্রতিবন্ধক হয়। যেমন পবিত্র অবস্থায় ছাড়া তার পক্ষে তওয়াফ করা সম্ভব নয়, কিন্তু এতদ্ব্যতীত হজের অন্যান্য কাজ ঋতুগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও করা সম্ভব।
৩. অজ্ঞতাবশত তাওয়াফ না করে হালাল হয়ে গেলে করণীয় কী?
প্রশ্ন: আমি গত বছর হজ্জব্রত পালন করেছি এবং শারঈ ওযর থাকার কারণে আমি তওয়াফে ইফাযা ও বিদায়ী তওয়াফ ব্যতীত হজের বাকী সব কাজ সম্পন্ন করেছি। মদীনায় ফিরে যাওয়ার পর দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আমি সবকিছু থেকে হালাল হয়ে গেছি। আমাকে বলা হয়েছে যে আমার হজ নষ্ট হয়ে গেছে এবং আগামী বছর আবার হজ ও কুরবানী করতে হবে। এর কি অন্য কোন সমাধান আছে?
উত্তর: না জেনে ফৎওয়া দেওয়ার এটা একটা মুসীবত। এই অবস্থায় আপনাকে মক্কায় ফিরে যেতে হবে এবং কেবলমাত্র তওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন করতে হবে। মক্কা থেকে বের হওয়ার সময় আপনি ঋতুগ্রস্ত থাকায় আপনাকে আর বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে না। কেননা ঋতুবতীর জন্য বিদায়ী তওয়াফ যরূরী নয়। এ মর্মে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীছে এসেছে, “রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষদেরকে এ মর্মে আদেশ করেছেন যে, তাদের সর্বশেষ কাজ যেন হয় কাবায়। তবে তিনি ঋতুবতীর ক্ষেত্রে এ হুকুম লাঘব করেছেন।” (বুখারী ও মুসলিম)।
তবে অবশ্যই আপনাকে তওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন করতে হবে। আর আপনি যেহেতু অজ্ঞতাবশত সবকিছু থেকে হালাল হয়েছিলেন, সেহেতু এটা আপনাকে কোন ক্ষতি করবে না। কেউ না জেনে ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের কোন কিছু করে ফেললে তার কোন সমস্যা হবে না। যখনই তার ওযর চলে যাবে, তখনই কৃত বিষয় থেকে বিরত থাকা তার উপর ওয়াজিব হবে।
৪. তওয়াফে ইফাযার পূর্বে প্রসূতি অবস্থা থেকে প্রাথমিকভাবে পবিত্র হলে করণীয় কী?
প্রশ্ন: একজন মহিলার যিলহজ মাসের ৮ তারিখে প্রসূতি অবস্থা শুরু হলো এবং তওয়াফ ও সাঈ ব্যতীত হজের যাবতীয় রুকন সে সম্পন্ন করল। তবে দশ দিন পরে সে লক্ষ্য করল যে, প্রাথমিকভাবে সে পবিত্র হয়ে গেছে। এখন কি সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে হজের অবশিষ্ট রুকন তওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন করবে?
উত্তর: সে নিশ্চিতভাবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত গোসল করে তওয়াফ করা তার জন্য জায়েয নয়। প্রশ্নে তার কথা “প্রাথমিকভাবে” থেকে বুঝা যায় যে, সে পরিপূর্ণভাবে পবিত্র হয়নি। তাই তাকে পূর্ণ পবিত্র হতেই হবে। এরপর যখন সে পূর্ণ পবিত্র হবে, তখন গোসল করে তওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করবে। তওয়াফের আগে সাঈ করে ফেললেও কোন সমস্যা নেই।
৫. ঋতুগ্রস্ত অবস্থায় বিনা ইহরামে মিকাত অতিক্রম করলে হুকুম কী?
প্রশ্ন: আমি ওমরায় গিয়েছিলাম। কিন্তু ঋতুগ্রস্ত থাকার কারণে মিকাত অতিক্রম করা সত্ত্বেও ইহরাম বাঁধিনি এবং পবিত্র হওয়া পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করেছি। এরপর পবিত্র হয়ে মক্কা থেকেই ইহ্রাম বেঁধেছি। এই কাজ কি জায়েয হয়েছে?
উত্তর: এই কাজ জায়েয হয়নি। যে মহিলা ওমরা করতে চায়, ঋতুগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও বিনা ইহরামে মিকাত অতিক্রম করা তার জন্য জায়েয নয়। সেজন্য সে ঋতুগ্রস্ত অবস্থায় গোসল করে এবং একটি পরিষ্কার কাপড় বা পট্টি ব্যবহার করে ইহরাম বাঁধবে। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সে কাবা ঘরে আসবে না এবং তওয়াফও করবে না।
তবে যদি সে পবিত্র অবস্থায় তওয়াফ করে এবং তওয়াফ শেষে তার ঋতুস্রাব আসে, তাহলে সে হজ বা ওমরার কাজ অব্যাহত রাখবে এবং সাঈও করবে। কেননা ছাফা-মারওয়াতে সাঈর জন্য পবিত্র থাকা শর্ত নয়।
৬. মক্কায় পৌঁছার পর ওমরাকারী স্ত্রী ঋতুগ্রস্ত হলে স্বামীর করণীয় কী?
প্রশ্ন: আমি সস্ত্রীক ওমরার জন্য আগমন করি। কিন্তু জেদ্দায় পৌঁছার পর আমার স্ত্রী ঋতুগ্রস্ত হয়ে যায়। ফলে আমার স্ত্রী ছাড়া আমি একাকী ওমরা সম্পন্ন করি। এখন আমার স্ত্রীর ক্ষেত্রে হুকুম কি হবে?
উত্তর: আপনার স্ত্রীর ক্ষেত্রে হুকুম হচ্ছে, সে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করবে। অতঃপর পবিত্র হলে ওমরা সম্পন্ন করবে। ওমরাকারিণী তওয়াফের পূর্বে ঋতুগ্রস্ত হয়ে গেলে পবিত্র হয়ে তওয়াফ করা পর্যন্ত সে অপেক্ষা করবে।
৭. সাঈ করার স্থানে কি ঋতুবতী মহিলা যেতে পারে?
প্রশ্ন: “সাঈ করার স্থান” কি হারামের (কাবার) অন্তর্ভুক্ত? ঋতুবতী কি সেখানে যেতে পারে? সেখানে গেলে কি তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়া ওয়াজিব হবে?
উত্তর: “সাঈর স্থান” মসজিদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর এ কারণেই কর্তৃপক্ষ এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী দেওয়াল দিয়ে দিয়েছেন। তাই কোন মহিলা তওয়াফের পরে এবং সাঈর আগে ঋতুগ্রস্ত হলে সে সাঈ করে নিবে।
আর তাহিয়্যাতুল মাসজিদ প্রসঙ্গে বলা হবে, কেউ যদি তওয়াফের পরে সাঈ করে এবং আবার মসজিদে ফিরে আসে, তাহলে সে উহা আদায় করবে। তবে এটি ছেড়ে দিলে কোন সমস্যা নেই।
৮. লজ্জাবশত ঋতুস্রাব গোপন করে হারামে প্রবেশ করলে করণীয় কী?
প্রশ্ন: আমি হজ করেছি। তবে তখন আমার মাসিক ঋতুস্রাব এসেছিল। কিন্তু লজ্জায় আমি কাউকে কিছু না বলে হারামে প্রবেশ করেছিলাম। অতঃপর নামায পড়েছিলাম এবং তওয়াফ ও সাঈ করেছিলাম। এখন আমার করণীয় কি?
উত্তর: ঋতুগ্রস্ত বা প্রসূতি অবস্থায় পতিত হলে কোন মহিলার জন্য নামায আদায় করা জায়েয নয়। সেকারণে এ মহিলাকে তার কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে।
ঋতু অবস্থায় তার তওয়াফ শুদ্ধ হয়নি, তবে সাঈ শুদ্ধ হয়েছে। সেজন্য ঐ মহিলাকে অবশ্যই আবার তওয়াফ করতে হবে। তওয়াফে ইফাযা হজের অন্যতম একটি রুকন। তাই দ্বিতীয় হালাল হওয়ার বিষয়টা এই তওয়াফ ছাড়া পূর্ণ হবে না।
৯. আরাফার দিনে ঋতুগ্রস্ত হয়ে গেলে কী করতে হবে?
প্রশ্ন: আরাফার দিনে কেউ ঋতুগ্রস্ত হয়ে গেলে সে কি করবে?
উত্তর: আরাফার দিনে কোন মহিলা ঋতুগ্রস্ত হয়ে গেলে সে হজের কাজ অব্যাহত রাখবে এবং অন্যান্যরা যা করছে, সেও তাই করবে। তবে পবিত্র না হয়ে কাবা ঘর তওয়াফ করবে না।
১০. তওয়াফে ইফাযার আগে ঋতুগ্রস্ত হলে এবং দেশে ফেরার সময় হলে করণীয় কী?
প্রশ্ন: জামরায়ে আক্বাবাতে পাথর নিক্ষেপের পর এবং তওয়াফে ইফাযার আগে যদি কোন মহিলা ঋতুগ্রস্ত হয় এবং তার পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব না হয়, তাহলে করণীয় কি?
উত্তর: যদি তার পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব না হয়, তাহলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে পট্টি বেঁধে জরূরী অবস্থার কারণে সে তওয়াফ করে নিবে এবং তার উপর কিছুই বর্তাবে না। অনুরূপভাবে হজের বাকী কাজগুলোও পূর্ণ করবে।
(আরও একটি বিষয় জানিয়ে রাখা ভালো: প্রসূতি মহিলা যদি চল্লিশ দিনের আগেই পবিত্র হয়ে যান, তাহলে গোসল করে অন্যান্য পবিত্র মহিলাদের মতই তওয়াফসহ হজের সব কাজ করবেন। আর ঋতুবতী মহিলা ইহরামের অবস্থায় কুরআন পড়তেও পারবেন, তবে তা কেবলমাত্র জরূরী প্রয়োজনে হওয়াই উত্তম।)
জিলহজ্জ গ্রুপ বাংলাদেশ
আমরা বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ হজ লাইসেন্স এবং আইটিএ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ।আপনার বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্ট
যোগাযোগঃ ইমু ও হোয়াটসএপ 📲01711165606 ,📲01715595991
▶ ঢাকা অফিসঃ ৫১/১ ভিআইপি টাওয়ার,লেভেল -৫,ভিআইপি রোড,নয়াপল্টন ,ঢাকা।
▶কেরানীগঞ্জ অফিসঃ ২৭১ নং জিলা পরিষদ মার্কেট পূর্ব আগানগর,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।
আমাদের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপনি এড হয়ে নিয়মি

