স্নাতকোত্তরের জন্য কানাডাতে কিভাবে আবেদন করতে হয় ।
যিনি আবেদন করবেন তার এবং তার ডিপেন্ডেড (স্বামী/স্ত্রী, সন্তান)-এর ই-পাসপোর্ট। আবেদন প্রক্রিয়া চলার সময় কমপক্ষে ৬ মাস ভ্যালিড থাকতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া চলার মাঝে মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস আগে পাসপোর্ট রিনিউ করে নিতে হবে।
আবেদনকারী এবং তার ডিপেন্ডেডদের জন্মনিবন্ধন। জন্মনিবন্ধন হতে হবে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রকৃত জন্মনিবন্ধন। * ১৮ বছরের উপরের সবার ভোটার আইডি কার্ড অথবা ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকতে হবে।
বিবাহিতদের জন্য Marriage Certificate এবং নিকাহনামা থাকতে হবে। বাংলাদেশে এ দুটি ডকুমেন্ট এখনও বাংলাতে ইস্যু করা হয়। তবে যে কাজী আপনাকে বিয়ে পড়িয়েছেন তার কাছে আপনি যদি আপনার বাংলা ডকুমেন্ট নিয়ে যান তবে তিনি একটি নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে তা ইংলিশে অনুবাদ করে দেবেন।
প্রতিটি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র এবং মার্কশিট ক্রেডিনশিয়াল করতে হবে। আর এ ক্রেডিনশিয়াল করার গাইড লাইন কানাডার ইমিগ্রেশনের সরকারি ওয়েবসাইটে (Immigration, Refugees and Citizenship Canada) দেয়া আছে।
IELTS স্কোর-এর সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আপনি যদি স্টুডেন্ট ভিসায় আসেন তবে আপনাকে ওঊখঞঝ-এর একাডেমিক পরীক্ষা দিতে হবে আর প্রায় অন্যসব ভিসার জন্য আপনাকে IELTS জেনারেল দিতে হবে।
ভিসার জন্য আপনাকে সেটেলমেন্ট ফান্ড ব্যাংকে দেখাত হবে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে টাকার পরিমাণের ভিন্নতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওরা যে টাকার পরিমাণের কথা আপনাকে বলবে সেই সমপরিমাণ টাকা ক্যাশ আকারে ব্যাংকে থাকা ভালো। এ টাকা বিভিন্নভাবে থাকতে পারে যেমন ফিক্স ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র, চলতি হিসাব, প্রভিডেন্ট ফান্ড, শেয়ারবাজার ইত্যাদি। বাড়তি হিসেবে আপনাদের সোনা-গহনা, নিজ নামে বা স্পাউসের নামে সম্পত্তি থাকলে তা দেখাতে পারেন।
ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। যেমন আপনার বা আপনার স্পাউসের যদি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকে তবে প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতার সনদপত্র জোগাড় করতে হবে। এক একটা সনদপত্র এক পাতার হলে ভালো। প্রত্যেক জায়গায় যিনি আপনাকে এ সনদপত্র প্রদান করবেন তার নাম, পদবি, স্বাক্ষর, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেইল এড্রেস থাকতে হবে। মনে রাখবেন, কানাডিয়ান ইমিগ্রেশনের সিঙ্গাপুর অফিস থেকে আপনার চাকরির ব্যাপারে অধিকাংশ সময়ই খোঁজ-খবর নেবে। অনেকের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর থেকে সশরীরে এসে অফিস দেখে যায় এবং আপনার উপস্থিতি তারা কামনা করে।
অনেক ক্ষেত্রে আপনি কেন কানাডায় অভিবাসনের ক্ষেত্রে যোগ্য এ ধরনের একটি এক পাতার চিঠি আপনাকে ডকুমেন্ট হিসেবে পাঠাতে হয়। ওই চিঠিটা লেখার আগে কানাডার জব মার্কেট সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে লিখবেন। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের কাজের ওপর ভিত্তি করে কানাডার জব মার্কেটে আপনি কী অবদান রাখতে পারেন তা ওই চিঠিতে ফোকাস করবেন। এ চিঠি লেখার ব্যাপারে আপনার যদি পর্যাপ্ত কনফিডেন্স না থাকে তবে এ বিষয়ে যারা দক্ষ তাদের সাহায্য নিয়ে এ চিঠিটা লিখতে পারেন।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে আপনার লোকাল থানার মাধ্যমে দরখাস্ত করতে হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কানাডিয়ান সরকারি ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত গাইডলাইন দেয়া আছে তা অনুসরণ করবেন। * আপনার ফেসবুক এবং অন্যসব সোশ্যাল মিডিয়া কানাডার ইমিগ্রেশন বিভাগ ঘাঁটাঘাঁটি করবে। সে ক্ষেত্রে আপনার দেয়া তথ্যগুলোর সঙ্গে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইলের পার্সোনাল ইনফরমেশনগুলোর মিল অবশ্যই থাকতে হবে।
যেসব কাগজের ফটোকপি দেবেন তা নোটারি করে দিতে হবে; তবে যে ডকুমেন্টের আসল কপি (ব্যাংক স্টেটমেন্ট) দেবেন তা নোটারি করার প্রয়োজন নেই। মিথ্যা কাগজ বানিয়ে দেবেন না। কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ কোনো না কোনোভাবে আপনার এ সব ডকুমেন্টের সত্যতা খুঁজে বের করবেই।

